রাজশাহী নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযানে এক পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী, আন্নি আক্তার, ৯৯৯-এ জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে বন্ধ দরজা ভেঙে তাঁদের বের করে আনেন। উদ্ধারকৃত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম, যিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত এবং এর আগে রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উদ্ধার করার পর তাঁদের দুজনকে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে আন্নি আক্তার জানান, তাঁর স্বামী এবং ওই নারীকে আগেও দুবার একই ফ্ল্যাটে দেখেছেন। তবে সংসার রক্ষা করার কথা ভেবে তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ৮ এবং ৯ সেপ্টেম্বর তিনি ডিআইজি এবং সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও মাহবুব আলমের সঙ্গে ওই নারীর যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। আন্নি আক্তার জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন যে মাহবুব আলম নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে ওই নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি স্বজনদের নিয়ে সেখানে গেলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি, যার ফলে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করতে বাধ্য হন।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব আলম উদ্ধারকৃত নারীকে তাঁর স্ত্রী বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, অভিযোগকারী আন্নি আক্তারকে তিনি নিজের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করলেও দাবি করেন যে, চার দিন আগে তাঁকে তালাক দিয়েছেন। এই দাবির সপক্ষে তিনি পুলিশের কাছে একটি কাগজ জমা দিয়েছেন। তবে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা ওই নারীর সাথে তাঁর বিয়ের তারিখ বা বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি মাহবুব আলম এবং ওই নারীও কথা বলতে অস্বীকার করেন।

আন্নি আক্তার আরও গুরুতর অভিযোগ করেছেন যে, বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর স্বামী একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিয়ের ঘটনায় জড়িয়েছেন। চলতি বছরের ১ মে তাঁদের বিয়ে হলেও পরে তিনি এই সত্য জানতে পারেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, মাহবুব আলমের পূর্ববর্তী স্ত্রীর করা অভিযোগ মিটিয়ে দিতে তিনি মোট ১৭ লাখ টাকা দিয়েছেন। এছাড়া ২৪ আগস্ট মাহবুব আলমের পালিত মেয়ে ও জামাতা তাঁর বিরুদ্ধে চুরির মামলা করার চেষ্টা করেন এবং রাতে তাঁর চায়ের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়, যার ফলে তিনি ২৫ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আন্নি আক্তারের দাবি, মাহবুব আলম তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিলে মাদক মামলায় ফাঁস করা এবং পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। উল্লেখ্য, যে ফ্ল্যাট থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি মাহবুব আলমের পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ না থাকায় মাহবুব আলম ও ওই নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে আন্নি আক্তার মাহবুব আলম, তাঁর পালিত কন্যা ও জামাতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে চন্দ্রিমা থানার ওসি ছুটিতে থাকায় তদন্তের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন থানার পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ সিদ্দিকী।