লা লিগায় এলচের বিপক্ষে ম্যাচের আগে রিয়াল মাদ্রিদের অধিকাংশ খেলোয়াড় 'আমরা সবাই সেউতার বাসিন্দা' লেখা বিশেষ টি-শার্ট পরিধান করলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং ইব্রাহিমা কোনাতে তা পরেননি। বরং ম্যাচ শুরুর মুহূর্তে তাঁরা পোশাকটি এমনভাবে গুটিয়ে ধরেন যে বিশেষ লেখাটি ঢাকা পড়ে যায়। এই ঘটনার পর ফুটবলার তিন জন এবং তাদের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে।
এমবাপ্পে জানান, টি-শার্ট পরার সিদ্ধান্তটি ছিল ক্লাবের পক্ষ থেকে এবং খেলোয়াড় হিসেবে তাঁদের তা মেনে নেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সেউতার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে তিনি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, একজন পেশাদার ফুটবলারের আগে তিনি একজন মানুষ। এমবাপ্পের পারিবারিক ইতিহাস এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে; তাঁর বাবা-মা আলজেরিয়া ও ক্যামেরুন থেকে অভিবাসী হিসেবে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন। ফলে অভিবাসীদের জীবনসংগ্রাম ও যন্ত্রণা তিনি খুব কাছ থেকে অনুভব করেন।
মরক্কো থেকে আসা অভিবাসীদের কষ্ট এবং সেউতার স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। এমবাপ্পে বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন বা চরম সংকটে আছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি সমর্থন জানাতে চেয়েছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, তাঁর এই পদক্ষেপকে যেন সেউতার মানুষের বিপক্ষে মনে না করা হয়। তিনি মনেপ্রাণে সেউতার বাসিন্দাদের সমর্থন করেন, তবে একইসাথে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে কষ্ট পাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, সেউতা হলো মরক্কো সীমান্তে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। সম্প্রতি মরক্কো থেকে প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করায় ওই ছোট শহরটিতে চরম সংকট তৈরি হয়। এর ফলে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। এই মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরতেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিশেষ টি-শার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। পুরো বিষয়টি নিয়ে এমবাপ্পে শান্তি ও ইতিবাচকতার বার্তা দিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন।




