বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রোববার দুপুরে সস্ত্রীক লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার গড্ডিমারীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেন। সফর চলাকালীন তিনি ব্যারাজের নিয়ন্ত্রণকক্ষে উপস্থিত হয়ে তিস্তা নদীর পানির স্তরের পরিমাপ, প্রবাহের চিত্র এবং সেচব্যবস্থায় পানি সরবরাহের প্রক্রিয়াগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া তিনি ব্যারাজের মূল সেতুটি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গেট পরিচালনার কৌশল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত এদিন সকাল সোয়া ৯টায় বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সকাল ১০টার দিকে তিনি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়িতে অবস্থিত ‘প্যারাগন ডেইরি’ নামক একটি দুগ্ধ খামার পরিদর্শন করেন এবং ঐতিহ্যবাহী ঘানিতে সরিষার তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি দেখেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনি হাতীবান্ধার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানি এলাকায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পাউবোর প্রকৌশলীরা তাঁকে এই সেচ প্রকল্পের কারিগরি খুঁটিনাটি, সেচ কার্যক্রম এবং গেট ওঠানামার মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করেন। ব্যারাজের রেস্টহাউসে দুপুরের খাবার শেষ করে তিনি সড়কপথে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ইএসডিও গেস্টহাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এই বিশেষ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিস নিকোল ক্লারিসা বেসনার্ড, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ এবং সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন। এছাড়া নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিন ইসলাম চৌধুরী, পাউবোর মহাপরিচালক রুহুল আমিন, রংপুর উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সরফরাজ বান্দা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব ও মিজানুর রহমান এবং নীলফামারীর ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চন্দ্রসহ হাতীবান্ধা ও ডিমলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




