সারের তীব্র সংকট এবং পরিবেশক ও ডিলারদের গাফিলতির জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলা। সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভে কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে গুদামের বেড়া, আবার কোথাও মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি রেখে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে সকাল সাতটা থেকেই সার সংগ্রহের জন্য কৃষকেরা জমায়েত হতে শুরু করেন। কাশেম ট্রেডার্সের সামনে অপেক্ষমাণ কৃষকদের অভিযোগ, সকাল আটটা পেরিয়ে গেলেও পরিবেশকের লোকজন উপস্থিত হননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল নয়টার দিকে প্রায় ২০০ কৃষকের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়, যার ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত কৃষকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয়। তবে স্থানীয়দের বাধা দেওয়ায় গুদাম থেকে কেউ সার নিয়ে যাননি। কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অর্পণ কুমার দাস জানান, গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকা সত্ত্বেও পরিবেশকের দেরিতে আসার কারণে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং সার বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু করে।

একই দিনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের মিলনবাজারে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকার যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, গুদামে ২০ টন সার থাকলেও কৃষকদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ওইদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে অতিরিক্ত সার সরবরাহ করে পরদিন তা বিতরণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অন্যদিকে, লালমনিরহাটে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তথাকথিত ‘সার সিন্ডিকেট’ ভেঙে ফেলার দাবিতে বেলা ১১টার দিকে লালমনিরহাট-পাটগ্রাম-বুড়িমারী মহাসড়কের মহেন্দ্রনগর বাজার এলাকায় কৃষকেরা গাছের গুঁড়ি দিয়ে অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে থাকে। কৃষকদের অভিযোগ, চলতি আমন চাষ মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় তারা সঠিক সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না, যার ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জেলা প্রশাসক জানান, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই; হাতীবান্ধার একটি ইউনিয়নে সার বিতরণের খবর শুনে অনেকে একত্রে মহেন্দ্রনগরে চলে আসায় সাময়িক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তবে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে কৃষকেরা সড়ক ছেড়ে দেন।