সরকারি কর্মচারীদের আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করল গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে এখন থেকে অনলাইনে সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই নতুন অনলাইন ব্যবস্থাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানান, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং প্রশাসনিক কাজে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, সহজ এবং জনবান্ধব করার উদ্দেশ্যেই এই অনলাইন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবার অনলাইনে বাসা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রথম এই ধাপে বিভিন্ন শ্রেণির ৫৪টি শূন্য বাসার জন্য মোট ৫৯৬টি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় ২৫৪টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ৩৪২টি আবেদন গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। এখন থেকে এই প্রক্রিয়ার ফলাফল অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।

ঢাকা শহরে বর্তমানে ২ লাখ ২২ হাজার সরকারি কর্মচারী কর্মরত থাকলেও সরকারি বাসার সংখ্যা মাত্র ২১ হাজার, যার ফলে চাহিদাই অনেক বেশি। দীর্ঘকাল ধরে এই বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে অসাধু চক্রের প্রভাব, ঘুষ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ চলে আসছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকেই এই অনলাইন সিস্টেম চালু করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ছিল পরিদপ্তরের, তবে প্রভাবশালী চক্রের বাধা ও চাপের কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি কর্মচারীদের নির্ধারিত গ্রেড অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সচিব ভবনে গ্রেড-১ এবং সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া সুপিরিয়র, এফ, ই, ডি-১ এবং ডি-২ শ্রেণির বাসাগুলো বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে স্থানান্তরিত হওয়ায় আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমবে, সময় বাঁচবে এবং বরাদ্দের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।