পাকিস্তানের টেস্ট দলের বর্তমান অবস্থা শোচনীয়। এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস হারের পথে তারা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড ৪৫৩ রান তোলে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৫২ রান নিয়ে খেলা শেষ হয় দ্বিতীয় দিনে। এখনও ২৬৮ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে তারা। তিন ম্যাচের সিরিজে এখনো কোনো ইনিংসে ২০০ রান তুলতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে ইনিংস হার প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এরই মধ্যে সাইম আইয়ুবের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে জ্যামাইকা কিংসম্যানের হয়ে তিন ম্যাচে একটি সেঞ্চুরিসহ ভালো পারফরম্যান্সের পর তাকে হঠাৎ টেস্ট দলে ডাকা হয়। কিন্তু এজবাস্টনে দুই ইনিংসেই তিনি শূন্য রানে আউট হয়েছেন। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন মনে করেন, এই সিদ্ধান্তই পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অসম্মান। স্কাই স্পোর্টসে তিনি বলেন, "সাইমের এখানে থাকার কথা ছিল না। গত ১১ মাসে সে কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেনি; ১০ দিন আগেও সিপিএল খেলছিল। বিদেশের কন্ডিশন থেকে উড়িয়ে এনে ডিউক বলের বিপক্ষে তাকে খেলানো বোকামি।" তিনি আরও বলেন, "পাকিস্তানের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। সাইমের ব্যাটিং দেখলে বোঝা যায়, দীর্ঘক্ষণ ফিল্ডিংয়ের পর হঠাৎ ব্যাটিংয়ে নেমে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেনি।"
একই অনুষ্ঠানে ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড বলেন, "সাইম দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছে। সে আর সুযোগ পাবে বলে মনে হয় না। তাকে ওপেনিং করানোই ঠিক হয়নি।"
নাসের হুসেইন পাকিস্তানের দলগত সমস্যার দিকেও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, "লর্ডস টেস্টের পর ৭ জন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি আগের ম্যাচে ৫ উইকেট পাওয়া বোলারকেও বাদ পড়তে হয়েছে। সিরিজের মাঝপথে সতীর্থ ও রুমমেটদের দল থেকে বাদ দিয়ে বাড়ি পাঠানো হলে দলের মৌলিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়। তখন খেলোয়াড়রা ভাবে, দল আমার সতীর্থদের তোয়াক্কা করে না, তাহলে আমি কেন দলের জন্য খেলব?"
উল্লেখ্য, লর্ডস টেস্টের পর পাকিস্তান দল থেকে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে দেশে পাঠানো হয়। দলে নতুন সাতজনকে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে পাঁচজনই টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় ছিলেন। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু এসব পরিবর্তন সত্ত্বেও দলের পারফরম্যান্সে কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।




