দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানিয়েছেন তাদের পরিবার। আজ রোববার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রুনির ভাই নওশের আলম এবং দম্পতির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। এই সাক্ষাতের পর তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলার বিচার চেয়ে আবেদন করবেন।

সাক্ষাৎকারের সময় মাহির সরওয়ার মেঘ বলেন, তিনি এখন কিছুটা আশাবাদী এবং চান তার বাবা-মায়ের হত্যার যথাযথ বিচার হোক, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি এই ঘটনায় সম্পৃক্ত না হন। নওশের আলম উল্লেখ করেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড একটি অত্যন্ত আলোচিত ও অমীমাংসিত ঘটনা। যেহেতু বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে অনেক পুরনো ঘটনার বিচার চলছে, তাই এই মামলাটিও এর আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে তিনি দাবি জানান, তদন্তে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, তাদের যেন বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পাশাপাশি র‍্যাবের হেফাজতে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে আটকে থাকা যারা নিরপরাধ, তাদের মুক্তির আহ্বান জানান তিনি।

পরিবারের এই দাবির প্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, তারা চাইলে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দিতে পারেন। যদি এই হত্যাকাণ্ড ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতাভুক্ত হয়, তবেই তা গ্রহণ করা হবে; অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে সকালে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, এই মামলাটি তাদের আওতাভুক্ত নয় কারণ এটি পদ্ধতিগত বা ব্যাপক কোনো অপরাধ নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র হত্যাকাণ্ড। সে কারণে এটি দায়রা আদালতেই বিচার হওয়ার কথা।

অন্যদিকে, ওই দিন বিকেলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গেও দেখা করেন পরিবারের সদস্যরা। তানভীর হাসান জানান, তিনি সম্প্রতি এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। সেই জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যমতে, একজন 'সাবেক মহাপরিচালকের' নাম উঠে এসেছে, যার বিরুদ্ধে দুদকের একটি মামলা রয়েছে। দুদকের মাধ্যমে জব্দ করা ওই কর্মকর্তার বরিশালের বাসভবন থেকে পাওয়া ইলেকট্রনিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে তিন-চারজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ১০টা থেকে ১১টার দিকে ওই সাবেক মহাপরিচালক (যিনি তখন র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন) তাকে জানিয়েছিলেন যে, পরদিন ভোরে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে এবং তাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। যদিও সরাসরি হত্যার কথা বলা হয়নি, তবে সেই সন্দেহভাজন ব্যক্তির মতে, ঘটনার সাথে বিডিআর বা তৎকালীন সরকারের কোনো স্পর্শকাতর ডকুমেন্ট, ডিস্ক বা মেমোরি কার্ডের বিষয় জড়িত ছিল।