২০১৫ সালে ক্রসফায়ারের শিকার হয়ে নিহত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা কবির মোল্লার মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আকলিমা বেগম। রোববার এই ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪তম সাক্ষী হিসেবে তিনি তাঁর জবানবন্দি প্রদান করেন।
জবানবন্দিতে আকলিমা বেগম বিস্তারিত জানান, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় তাঁর স্বামীর খোঁজ করলেও কোনো সন্ধান পাননি। তবে পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি টেলিভিশনের সংবাদ শিরোনামে তিনি জানতে পারেন যে, টিপু হাওলাদার এবং কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। এই খবর পাওয়ার পর তিনি তাঁর সন্তান এবং দেবরকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে পৌঁছে বাড়ির উঠানেই তিনি স্বামীর নিথর দেহটি দেখতে পান। যদিও আত্মীয়-স্বজনরা তাঁকে লাশ দেখতে নিষেধ করেছিলেন, তবুও তিনি যান এবং লক্ষ্য করেন কবির মোল্লার বুকে দুটি গুলির ক্ষত রয়েছে। ওই সময়ে তাঁদের দ্রুত লাশ দাফন করে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আকলিমা বেগম তাঁর সাক্ষ্যে আরও দাবি করেন যে, তাঁর স্বামীকে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ হত্যা করেনি, বরং পার্শ্ববর্তী থানার দুজন পুলিশ সদস্য এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছিল।
এই মামলায় মোট চারজন অভিযুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ বর্তমানে পলাতক। অন্যদিকে, উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম এবং মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে অবস্থান করছেন।




