সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এমন দুটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে একতরফা সুযোগের কথা উল্লেখ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাইলস ব্যান্ডের সদস্য ও সংগীতশিল্পী হামিন আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো কি বাংলাদেশি শিল্পীদের জন্য একই ধরনের সুযোগ তৈরি করছে?
হামিন আহমেদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রকৃত বিকাশ তখনই সম্ভব যখন তা পারস্পরিক হয়। তিনি বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন, গত পাঁচ বছরে কতজন বাংলাদেশি শিল্পী বা ব্যান্ড পাকিস্তানে গিয়ে পরিবেশনা করেছেন, তার হিসাব পাওয়া গেলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। ভারতের ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের দৃষ্টান্ত অত্যন্ত সীমিত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, যখন অন্য দেশের দরজা বাংলাদেশি শিল্পীদের জন্য বন্ধ থাকে, তখন বাংলাদেশের দরজাও খোলা রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
উল্লেখ্য, ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে ‘ওয়েভ ফেস্ট: এনজয় দ্য ফুল মুন’ শিরোনামে পাকিস্তানি ব্যান্ড ‘কাভিশ’-এর একটি কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। এই আয়োজনে কাভিশের সঙ্গে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন ও মেঘদলের পারফর্ম করার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় তা স্থগিত করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রাইমওয়েভ কমিউনিকেশনস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমতি পাওয়ার পর নতুন তারিখ জানানো হবে।
পাশাপাশি একই দিনে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আরও একটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট স্থগিত করা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের আলী আজমত, মুস্তাফা জাহিদ ও ব্যান্ড জালের পাশাপাশি বাংলাদেশের জেমস, নেমেসিস এবং লেভেল ফাইভের মঞ্চে আসার কথা ছিল। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স রিপাবলিক অনুষ্ঠানটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
কনসার্ট স্থগিতের এই ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে হামিন আহমেদ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর কার্যপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সব ধরনের অনুমতি পাওয়ার আগেই কীভাবে ইভেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিট বিক্রি শুরু করে দেয়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সবশেষে তিনি অনুরোধ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।




