চলতি বছরে ভারতের অর্থনৈতিক সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও দেশটির শীর্ষ ধনীদের মোট সম্পদের পরিমাণে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। রুপির বিনিময় হার ৮.৫ শতাংশ এবং শেয়ারবাজারের সূচক ৯.৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও ভারতের শতকোটিপতিদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে স্থির রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা সাময়িকী ফোর্বসের বার্ষিক তালিকায় বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

তিন বছর পর পুনরায় তালিকার শীর্ষে ফিরে এসেছেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে, যা আগের চেয়ে ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার বেশি। যদিও ২০২২ সালে তাঁর পারিবারিক সম্পদের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার কোটি ডলার, যা বর্তমান হিসাবের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বেশি। বর্তমানে আদানি গ্রুপ তাদের ব্যবসায়িক পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো নির্মাণে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানি এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছেন। খুচরা ব্যবসা এবং অন্যান্য খাতে মুনাফা কমে যাওয়ায় রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম কমেছে, ফলে তাঁর সম্পদ এক বছরে ১ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ৮ হাজার ৬৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আম্বানি তাঁর মোবাইল সেবা প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মসকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া এই আইপিও-র মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩৮০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে, যা ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম আইপিও হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ও পি জিন্দাল গ্রুপের সাবিত্রী জিন্দাল, যার পারিবারিক সম্পদ সামান্য কমে ৩ হাজার ৯৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছেন ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তাল। ৭৪ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছে তিনি চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন। এছাড়া তিনি ১৬৫ কোটি ডলার মূল্যের আইপিএল দল রাজস্থান রয়্যালস কিনে ক্রীড়া খাতের বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।

তবে সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে, তালিকার অর্ধেকের বেশি ধনীর সম্পদ কমেছে। বিশেষ করে এআই-এর উত্থানে তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতের ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এর ফলে শিব নাদার, আজিম প্রেমজি এবং এন আর নারায়ণ মূর্তির সম্পদের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। এমনকি ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি ও গোপালকৃষ্ণন এবার তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়েছেন।

এবারের তালিকায় নতুন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কৃষ্ণ চিভুকুলার, দেশাই ভাইরা, আদিত্য খেমকা এবং ভিরানি ভাইরা। আদিত্য খেমকা তাঁর প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ার ফলে ৩৬০ কোটি ডলার সম্পদ নিয়ে ৮৩তম স্থানে আছেন। এছাড়া জেনারেল আটলান্টিকের কাছে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে তালিকায় প্রবেশ করেছেন বালাজি ওয়েফার্সের উদ্যোক্তা ভিরানি ভাইরা। এছাড়া অনিল আগরওয়াল পুনরায় তালিকায় ফিরে এসেছেন। উল্লেখ্য, এবারের তালিকার জন্য ন্যূনতম সম্পদের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার, যা গত বছর ছিল ৩২০ কোটি ডলার।