দেশের রুগ্ণ ও অচল হয়ে পড়া সরকারি শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনাকে বিনিয়োগের আওতায় আনতে খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে নবগঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে কেউ খসড়া নীতিমালার ওপর নিজের মতামত জানাতে পারবেন। প্রস্তাবিত নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ যাচাই ও মূল্যায়ন, উপযুক্ত লেনদেন কাঠামো নির্ধারণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারী নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় সম্পদ হস্তান্তরের জন্য পাঁচটি সমন্বিত ধাপ প্রস্তাব করা হয়েছে। ধাপগুলো হলো—প্রতিষ্ঠান শনাক্তকরণ, প্রস্তুতি, দরপত্র আহ্বান, চুক্তি সম্পাদন এবং পরিবীক্ষণ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রথমে অব্যবহৃত সম্পদের তালিকা তৈরি করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। এরপর সরকার বিনিয়োগযোগ্য প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করবে। পুরো লেনদেন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি নির্দিষ্ট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ইনভেস্ট বাংলাদেশের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি কার্যনির্বাহী কমিটি কাজ করবে, যা দরপত্র আহ্বান, বাজার যাচাই ও মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

খসড়া নীতিমালায় একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো বিনিয়োগকারী নিজ উদ্যোগে কোনো নির্দিষ্ট সম্পদে বিনিয়োগের স্বতঃপ্রণোদিত প্রস্তাব দিলে উন্মুক্ত দরপত্রে তিনি অতিরিক্ত ৭ শতাংশ বোনাস স্কোর পাবেন। অন্যদিকে, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পাওনা ও পেনশনের বিবরণী উন্মুক্ত রাখা এবং প্রভাবিত কর্মীদের পুনর্বাসনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আগে বকেয়া পরিশোধ করা হবে; এরপর অবশিষ্ট অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হবে। প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ প্রতিকারের সুযোগ রাখার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সম্পদের ন্যায্য অর্থনৈতিক মূল্য নিশ্চিত করতে হস্তান্তর পরবর্তী বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য সমন্বিত কাঠামোর প্রস্তাব এসেছে।

উল্লেখ্য, খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে গত ১২ জুলাই সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। পরে ১৮ আগস্ট শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়। সেই মতামতগুলো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সুপারিশগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন এই খসড়াকে আরও কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞসহ সব পক্ষের মতামত চাওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত হয়ে গত ২৩ আগস্ট যাত্রা শুরু করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন পরিচালিত এই সংস্থাটি এখন দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।