দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পরিবর্তন এসেছে। শনিবার সকাল থেকে প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সমন্বয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ সকাল ১০টায় এই নতুন দর কার্যকর করার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে মূল কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি ভালো মানের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার এসব ক্যারেটের দাম যথাক্রমে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা, ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা, ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা ছিল। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে সব ধরনের সোনার দরই বেড়েছে।
এদিকে সোনার পাশাপাশি রুপার বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। তবে এবার রুপার দাম কমেছে। প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৬ টাকা হ্রাস পেয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি এখন ৫ হাজার ১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সকালে এক ধাক্কায় ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে সেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এরপর দাম কমতে কমতে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছিল। বর্তমানে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে সোনার বাজারে উত্থান-পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে ডলারের অবস্থান তুলনামূলক দুর্বল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সোনার দামে পারস্য উপসাগরের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব তেমন নেই; বরং দুর্বল ডলারের কারণেই স্বর্ণের দাম চড়ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধি পেলেও ডলারের মান সেভাবে বাড়ছে না। বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছিল, কিন্তু গতকাল তা কমে যায়। গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রতি আউন্স সোনার দাম ১৭ ডলার কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দাম বৃদ্ধির ধারা শুরু হওয়ার পর গত ৩০ দিনে সোনার দাম মোট ২ ডলার ৫৯ সেন্ট বেড়েছে।




