সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় শনিবার ভোরে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর এলাকাটিতে আগুনের লেলিহান শিখা এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের আগে শুক্রবার মধ্যরাতে রিয়াদ ও এর পার্শ্ববর্তী আল-খারজ শহরে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। ওই বার্তায় আকাশপথে হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, যদিও আধা ঘণ্টা পর সতর্কতা সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সতর্কতা প্রত্যাহারের পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যমতে, এই ঘটনার প্রভাবে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেশ কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব হয়েছে এবং কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ বা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এই অস্থিরতার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরোপিত বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬' (এইচআর ৫৩৩৪) বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে, যার আওতায় জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একই আইনে রাশিয়ার বিরুদ্ধেও শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই পদক্ষেপকে 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের কোনো শক্তির চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। তবে সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের পরিমাণ গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত জুলাই থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালিতে সৌদি জাহাজের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং মূল ভূখণ্ডের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বর্তমানে মোখা বন্দর ও মাইয়ুন দ্বীপের পর হুতিরা তাইজ এবং মারিব এলাকা দখলের চেষ্টা করছে, যা প্রতিরোধ করতে সৌদি বিমানবাহিনী এবং ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তীব্র লড়াই চালাচ্ছে। হুতিদের দাবি, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৩০০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে, সরকারি বাহিনী দাবি করেছে যে তারা আল-জাওফ প্রদেশে একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং তাইজ প্রদেশে ৩০ জন হুতি যোদ্ধাকে খতম করেছে। দুর্গম ভূখণ্ড এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই যুদ্ধ বর্তমানে আরও জটিল হয়ে উঠেছে, তবে মারিবের স্থানীয়রা তাদের এলাকা রক্ষায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।