ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধস சம்பவের পরিপ্রেক্ষিতে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ ও অবহেলার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে মামলা দায়ের করেছিল, তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর এই শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। মঙ্গলবার এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের কথা থাকলেও, ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রফিকুল ইসলাম নতুন দিন ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য যে, গত ১ সেপ্টেম্বর মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে পুনরায় উত্তোলন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই মামলায় মূল আসামি সোহেল রানার পাশাপাশি আরও সাতজন অভিযুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব। আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা জামিনে থাকলেও হত্যা মামলার কারণে বর্তমানে কারাগারে বন্দি, তাই তাকে জেল থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকি আসামিরা জামিনে থেকে এদিন আদালতে হাজিরা দেন। মামলার বিচার চলাকালীন সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মৃত্যুবরণ করায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ে, যাতে ১ হাজার ১৩৬ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং অসংখ্য শ্রমিক আহত হন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৫ জুন নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে সাভার থানায় প্রথমে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ভবনটি রানার বাবার নামে থাকায় শুরুতে তাকে আসামি করা হয়নি, তবে পরবর্তীতে তদন্তে সোহেল রানার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্তের পর সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যদিও পরে অভিযোগ গঠনের সময় ১০ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা রানা প্লাজা নামক একটি ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্সের নকশা অনুমোদন করেছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে আরও চারতলা নির্মাণের অনুমতি চাওয়া হয়। এছাড়া শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদিত হলেও সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপন করা হয়। নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের প্রতিটি ধাপে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৭ সালের ২১ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।




