শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ৩০টি মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার রহস্য উদঘাটনে তিনজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর আদালত-৪ এর বিচারক জোবায়ের হোসেন এই আদেশ প্রদান করেন। রিমান্ডে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন— এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যান চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী এই তথ্যের নিশ্চিত করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর ইসলাম সোমবার আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালেও, শুনানির অপেক্ষায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে, যখন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির পর রাতে তাদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এই পলায়নের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ দাবি করেছিল যে, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় শৌচকর্মের অজুহাতে এসআই প্রবীর কুমার পিচ্চি রাজাকে গাড়ি থেকে নামিয়েছিলেন এবং সেই সুযোগে সে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার, নায়েক কামাল হোসেন এবং আরও তিন কনস্টেবলকে (মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেন) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তবে পরবর্তীতে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং পর্যবেক্ষণ কমিটির তদন্তে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পিচ্চি রাজা বাইমাইল থেকে নয়, বরং ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজন ভ্যানটি থামানো হয়। সে সময় ভ্যানের দায়িত্বে থাকা প্রবীর কুমার চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলে দেন। এরপর পিচ্চি রাজা এবং আরও এক হাজতিকে নিচে নামানো হয়। অন্য হাজতিকে পুনরায় গাড়িতে তোলা হলেও পিচ্চি রাজাকে আর ভেতরে নেওয়া হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল আগে থেকে পরিকল্পিত। প্রবীর কুমার পিচ্চি রাজাকে রাস্তার পাশে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে তুলে দেন এবং এরপর পুনরায় পুলিশ দলের সাথে যোগ দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেন।




