রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বছরে মোট ১৩ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসটি সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ মোট মৃত্যুর ৬১ শতাংশের বেশি ঘটেছে এই মাসেই।
হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক শেখ শামীম আহমেদ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে জানান, মৃত ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চারজন রাজশাহী, দুইজন কুষ্টিয়া এবং পাবনা ও নাটোর থেকে একজন করে ছিলেন। লিঙ্গ ও বয়সভেদে মৃতদের মধ্যে পুরুষ নয়জন এবং নারী চারজন। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুর সংখ্যা ১১ এবং দুইজন শিশু ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে। মাসভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব 살펴보লে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ২ জন, জুনে ১ জন এবং আগস্টে ২ জন মারা গেলেও সেপ্টেম্বরেই এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে চিকিৎসক শেখ শামীম আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে ১৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৯২৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় তিনি নগরবাসীকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কার্যকর। ফলে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে এবং জমে থাকা পানি অপসারণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করেন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।




