রাজশাহী নগরের তেরোখাদিয়া এলাকায় অবস্থিত বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান সংস্কারকাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে গত সোমবার থেকে স্টেডিয়ামের যাবতীয় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়ামের রং করা, নতুন রাস্তা তৈরি এবং বিদ্যমান রাস্তার সংস্কার কার্যক্রম চলছিল।

তদন্ত ও পরিদর্শনে দেখা গেছে, রাস্তার কার্পেটিংয়ের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। সামান্য বৃষ্টিতেই পিচ সরে গিয়ে ইটের খোয়া বেরিয়ে এসেছে। এমনকি কিছু অংশে খোয়া বা পাথরের স্তর একেবারেই দেওয়া হয়নি; কেবল বালুর সাথে সামান্য বিটুমিন মিশিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত। বিসিবির কাউন্সিলর ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী ব্যক্তিগতভাবে রাস্তার কার্পেটিং পরীক্ষা করে এই ত্রুটিগুলো শনাক্ত করেন এবং অবিলম্বে এই অনিয়মের তদন্ত দাবি করেন।

রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি গ্যালারির রং করার কাজেও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা পাওয়া গেছে। নির্দিষ্ট শিডিউল অনুযায়ী বার্জার কোম্পানির রং ব্যবহারের কথা থাকলেও, বাস্তবে অন্য কোম্পানির রং ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি রঙের প্রলেপও সব জায়গায় সমানভাবে লাগানো হয়নি, যার ফলে অনেক অংশ ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। রঙের কাজের সাব-ঠিকাদার ফজলে রাব্বি খান স্বীকার করেছেন যে, অন্য কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে তাদের রং নিতে হয়েছে, যদিও তিনি দাবি করেন সেই রং বার্জারের চেয়ে ভালো।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ পেয়েছে 'সুবর্ণা এন্টারপ্রাইজ' এবং গ্যালারি রং ও শৌচাগার নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে 'দেশবন্ধু এন্টারপ্রাইজ'। ভেন্যু ব্যবস্থাপক সাইফুল্লাহ খান জেম আগে থেকেই সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানকে নিম্নমানের কাজের ছবিসহ অবহিত করলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। তবে সহকারী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান পরে নিম্নমানের কাজের কথা স্বীকার করে জানান যে, এই কারণে ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখা হয়েছে এবং কাজ সংশোধন করে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন জানিয়েছেন, তিনি প্রকৌশলী মোখলেসুরকে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ত্রুটিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।