রাজধানীর চাঁনখারপুলে অবস্থিত বেসরকারি রয়েল কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউ-তে এক নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, হাসপাতালের ইনকিউবেটরে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে শিশুটির শরীর পুড়ে গেছে। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের চিকিৎসক তাজকিয়া হকের মতে, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে; বিশেষ করে মাথা, মুখ, পিঠ ও পায়ের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, বগুড়ার কাহালু থানার পলি বগুই গ্রামের বাসিন্দা মো. রাব্বানী তার স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছিলেন। শনিবার ভোর ৪টার দিকে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পরপরই নবজাতকের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসকরা দ্রুত এনআইসিইউ-তে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ঢাকা মেডিকেলে পর্যাপ্ত বেড খালি না থাকায় এক ওয়ার্ড বয়ের সহায়তায় ভোর ৫টার দিকে শিশুটিকে রয়েল কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

ভুক্তভোগী বাবার দাবি, তিনি যখন হাসপাতালের কাগজপত্রের কাজ শেষ করে ফিরে আসেন, তখন দেখেন ইনকিউবেটরের ভেতরে তার সন্তান দাউদাউ করে জ্বলছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা পুনরায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রাব্বানীর আরও অভিযোগ, এই দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের কর্মচারীরা তাকে মারধর করেন।

অন্যদিকে, রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শিশুটিকে এনআইসিইউ-তে ভর্তির প্রক্রিয়া চলাকালীন বেডে রাখা হয়েছিল এবং সেই সময়েই একটি দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা যা সম্ভবত শর্ট সার্কিটের কারণে ঘটেছে। এছাড়া মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাসপাতালের স্টাফরা কাউকে মারধর করেননি, বরং অন্য রোগীদের স্বজনদের নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়েছে।

পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন যে, পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।