লর্ডস টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ৩৮৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। ফলে চতুর্থ দিনেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করল ইংল্যান্ড এবং এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করল তারা।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। মাত্র ৭ রান হয়েই বিদায় নেন আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শফিক। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন মাত্র তিন বলের ব্যবধানে এই দুই ব্যাটারকে আউট করে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেন। এরপর স্কোর দ্বিগুণ হতেই রবিনসনের শিকার হন অধিনায়ক বাবর আজম। অন্যদিকে জস আর্চারের একটি ক্ষিপ্র বাউন্সারে অসহায় হয়ে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন বাবর।
এরপর শান মাসুদ এবং সৌদ শাকিল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের জুটির রান যখন সেঞ্চুরির কাছাকাছি, তখন রিভিউয়ের মাধ্যমে মাসুদকে আউট করে পুনরায় আঘাত হানেন রবিনসন। ২৬ রান করে বিদায় নেন এই ওপেনার। রবিনসনের দাপট থামেনি; পরের ওভারেই লেংথ বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে এলবিডব্লু করে ১১৫ রানে ৫ উইকেটে পর্যবসিত করেন তিনি।
চতুর্থ দিনের চা বিরতির সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১৪০ রান এবং সৌদ শাকিল ৭৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা দ্রুত পতনের মুখে পড়লেও শাকিল পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যান। ১৩টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে তিনি ৯৭ রান পর্যন্ত পৌঁছান, তবে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েই আউট হন তিনি। ম্যাচটিতে রবিনসন ৪টি, টাং ৩টি এবং আর্চার ২টি উইকেট সংগ্রহ করেন। ওলি রবিনসন তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য 'ম্যান অফ দ্য ম্যাচ' নির্বাচিত হন।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড ১৭৭ রান নিয়ে দিন শুরু করলেও ২০৮ রানেই তারা থামে। ড্যান লরেন্স ৫০ রান নিয়ে মাঠে নামলেও মাত্র ৪ রান যোগ করেই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে বোল্ড হয়ে যান। এই ম্যাচে মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের হয়ে সেরা বোলিং করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২৯০ এবং ২০৮ (৫৪.২ ওভার) - লরেন্স ৫৪, গে ৩১; আব্বাস ৫/৫৭, শেহজাদ ২/৫৬, আলী ২/৭০।
পাকিস্তান: ১১০ এবং ১৯৪ (৫০.৫ ওভার) - শাকিল ৯৭, মাসুদ ২৬; রবিনসন ৪/২৪, টাং ৩/৪৬, আর্চার ২/৭৩।
ফলাফল: ইংল্যান্ড ১৯৪ রানে জয়ী।




