শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিকে কাজে লাগিয়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমিয়েছেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক। জেলার প্রধান আকর্ষণ আলুটিলা, মায়াবিনী লেক এবং জেলা পরিষদ পার্কসহ প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্র এখন দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর। অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ি হয়ে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালির উদ্দেশ্যেও যাত্রা করছেন। এই পর্যটকস্রোতের কারণে স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন খাতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ির জেলা পরিষদ পার্কে দেখা যায়, স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত পরিবেশ। কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত, আবার কেউ স্বজনদের নিয়ে আড্ডায় মগ্ন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আসা পর্যটক অন্তু দাশ জানান, তাঁরা এক দিনের সফরে ভোরেই খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল জেলা পরিষদ পার্ক, আলুটিলা ও রিচাং ঝরনা দেখার পর ফেরার পথে রাস্তার ধারের পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করা। পার্কের টিকিট বিক্রেতা মনতোষ ত্রুপিরা জানান, সাধারণ সময়ে যেখানে দিনে দুই-তিনশ পর্যটক আসেন, সেখানে গত সোমবার প্রায় ৭০০ জন দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন।
পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড়ে পরিবহন খাতের ব্যবসা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। খাগড়াছড়ি জিপ মালিক সমিতির লাইনম্যান সৈকত চাকমা জানান, আগামী শনিবার পর্যন্ত তাঁদের লাইনের অধিকাংশ গাড়িই আগে থেকে বুকিং হয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি গাড়ি সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, গত রোববার থেকেই জিপ এবং পিকআপের আগাম বুকিং শুরু হয়েছে।
একইভাবে স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। খাগড়াছড়ির সিস্টেম রেস্তোরাঁর কর্মী আচিং মারমা জানান, প্রতিদিন প্রচুর ভিড় হচ্ছে, এমনকি গত সোমবার দুপুরে জায়গার অভাবে অনেক পর্যটককে দীর্ঘক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে পর্যটক বাড়লেও শহরের হোটেলগুলোতে তেমন চাপ দেখা যায়নি। হোটেল খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা অধিকাংশ পর্যটক ভোরেই খাগড়াছড়িতে পৌঁছে সরাসরি সাজেক চলে যান। সেখান থেকে ফিরে বিকেলে স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে রাতের গাড়িতেই নিজ এলাকায় ফিরে যান। ফলে খুব কম পর্যটক খাগড়াছড়ি শহরে রাত যাপন করছেন। হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা জানান, তাঁদের অর্ধেকের বেশি কক্ষ বুকিং থাকলেও অনেক হোটেলের অবস্থা তেমন ভালো নয়।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, পূজার ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্র এবং পূজামণ্ডপগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।




