জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। প্রতিষ্ঠার দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের পথে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষমতা গ্রহণের পর এই আয়োজন নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। ২১ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তাঁর দপ্তরের সময়সূচির সঙ্গে সমাবর্তনের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ এই অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সমাবর্তন নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে।
এর আগে, প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পর ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে সেই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রায় ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েট সেখানে অংশ নিয়েছিলেন। স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা সেই সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। এরপর দ্বিতীয় সমাবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নানা কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২২ সালে ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও তা আর এগোয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও কয়েকটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যোগ্য হওয়ায় সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এখন ২১ হাজারে পৌঁছেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট সাতটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এবারের সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হবেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও এই সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে একত্রিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।
দীর্ঘ অপেক্ষার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ আনুষ্ঠানিকতা হলো সমাবর্তন। এটি শুধু গাউন-টুপি পরার বিষয় নয়; বরং দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তানজীদ মাহমুদ বলেন, শিক্ষাজীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন হলো সমাবর্তনে অংশ নেওয়া। প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করেছেন তিনি। আরও একজন শিক্ষার্থী জানান, যাঁরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরি বা উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য এই আয়োজন ক্যাম্পাসে ফেরার একটি সুযোগ তৈরি করবে। ফলে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপিত হতে পারে।
অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই ফলাফল যাচাই, সনদ প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব। উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, রাষ্ট্রপতির সময়সূচি ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিকভাবে আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই সময়ই অনুষ্ঠান হবে, তবে প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
সমাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত প্রাত্যহিক প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে মূল সনদ সংগ্রহ করতে পারলেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। বিশেষ করে যাঁরা বহু বছর আগে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাঁরাও এখনো এই সমাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
সব মিলিয়ে, ২১ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে বড় পরিসরের এই আয়োজন সফল করতে ভেন্যু, নিরাপত্তা, সনদ প্রস্তুত ও নিবন্ধন ব্যবস্থা আগে থেকেই পরিকল্পনার প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং রাষ্ট্রপতির সময়সূচি নির্ধারণের ওপরই এখন নির্ভর করছে এই সমাবর্তন কবে অনুষ্ঠিত হবে — সেটিই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মূল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।




