২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে প্রাথমিক বিজ্ঞানের ষষ্ঠ অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে সূর্য কেন পৃথিবীর শক্তির প্রধান উৎস এবং আলোর প্রকৃতি কেমন, তা এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
পৃথিবীতে বিদ্যমান প্রায় সব ধরনের শক্তির প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ উৎস হিসেবে সূর্যকে গণ্য করা হয়। উদ্ভিদ সূর্যের আলোকশক্তি গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজস্ব খাদ্য প্রস্তুত করে এবং সেই শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চয় করে রাখে। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী যখন এই উদ্ভিদজাত খাদ্য গ্রহণ করে, তখন ওই রাসায়নিক শক্তি তাদের শরীরে স্থানান্তরিত হয়, যা পরবর্তীতে শারীরিক পরিশ্রম বা গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এছাড়া বর্তমান সময়ে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। এমনকি পেট্রোলিয়াম কিংবা কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানিগুলোও মূলত প্রাচীন আমলের উদ্ভিদে সঞ্চিত সৌরশক্তিরই রূপ। তাই বলা যায়, আধুনিক বিদ্যুৎশক্তি থেকে শুরু করে খাদ্যের রাসায়নিক শক্তি—সবকিছুর মূলে রয়েছে সূর্যের ভূমিকা।
আলোর গতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এটি সর্বদা সোজা পথে চলে। একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব। তিনটি সমান উচ্চতার শক্ত কাগজ নেওয়া হলে এবং সেগুলোর মাঝখানে ছিদ্র করে একটি মোমবাতির সামনে রাখা হলে, ছিদ্রগুলো একই সরলরেখায় থাকলে মোমবাতির আলো অপর প্রান্ত থেকে দেখা যায়। তবে কোনো একটি কাগজ সামান্য সরিয়ে দিলে ছিদ্রগুলো আর সরলরেখায় থাকে না এবং আলো দেখা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এর মূল কারণ হলো, আলো বক্রপথে চলাচল করতে পারে না এবং কাগজের বাধা অতিক্রম করে ছিদ্র খুঁজে নিতে পারে না। এই পরীক্ষাটি নিশ্চিত করে যে আলো সব সময় সরলরেখায় চলে।
পাশাপাশি দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন শক্তির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যেমন—অন্ধকার ঘর আলোকিত করতে ব্যবহৃত হয় আলোকশক্তি (বাল্ব বা মোমবাতি), বিনোদন ও কম্পিউটার চালানোর জন্য প্রয়োজন বিদ্যুৎশক্তি। অন্যদিকে, কাপড় ইস্ত্রি করা বা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয় তাপশক্তি। শরীর গঠন এবং চলাফেরার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আসে খাদ্যের রাসায়নিক শক্তি থেকে, যা যান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়। এছাড়া রেডিও বা স্পিকারের মাধ্যমে গান শোনার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের কানে পৌঁছায়। এই শিক্ষা উপকরণটি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. আবু সুফিয়ান প্রণয়ন করেছেন।




