প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রংপুর সফর উপলক্ষে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরে বর্তমানে ব্যাপক সাজসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এই সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানে সৈয়দপুর পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে যাবেন এবং বেলা ১১টার দিকে মন্দির পরিদর্শন শেষে পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। পরবর্তীতে তার চট্টগ্রাম সফরের কথা রয়েছে।

সফরের প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার সকাল থেকেই সৈয়দপুর শহর, বিমানবন্দর সড়ক এবং রংপুর মহাসড়ক জুড়ে সাজসজ্জার কাজ চলছে। রাস্তার ডিভাইডার মেরামত, বিভিন্ন স্থাপনায় রং করা এবং সড়কের পাশে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় একটি বিতর্কিত বিষয় সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে সড়কের পাশে থাকা দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড়টি স্থায়ীভাবে অপসারণ না করে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় সংলগ্ন পৌরসভার এই ভাগাড়ে শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, হাসপাতাল ও হোটেল থেকে সংগৃহীত বর্জ্য ফেলা হতো। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াত এবং পথচারী ও স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বছরের পর বছর এই ভাগাড় সরানোর দাবি জানালেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কথা জানামাত্রই তা বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ কি প্রধানমন্ত্রীকে রঙিন চশমা পরিয়ে দেখাতে চায় যে এখানে উন্নয়ন হয়েছে?

বিষয়টি নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর পৌরসভার ভেতর দিয়ে রংপুরে যাবেন, তাই শহরের বিভিন্ন জায়গার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং ডিভাইডার মেরামতের কাজ চলছে। যেসব স্থানে ময়লার স্তূপ ছিল, সেগুলো বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, পথচারী মাহবুবার রহমান দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেয়ে সাময়িক স্বস্তি প্রকাশ করলেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার দাবি জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

অন্যদিকে, দলীয় প্রধানের এই সফর ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তার আগমনে তারা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত।