রংপুর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ডিসি মোড় থেকে লালকুঠির মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১৫০ মিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে মাত্র পাঁচ দিনে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল গত জানুয়ারি মাসে। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে সড়কের পিচ ও ইট তুলে ফেলার পর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ ফেলে রাখা হয়েছিল, যার ফলে পথচারী ও যানবাহনের চরম ভোগান্তি তৈরি হয়। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরের কথা জানা মাত্রই প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে এবং ১৫ অক্টোবর থেকে দ্রুত গতিতে কাজ শুরু হয়। শ্রমিকদের দিনরাত খাটুনি এবং তড়িঘড়ি প্রচেষ্টায় আজ সোমবার সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
সড়কের পাশে ব্যবসা পরিচালনা করা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে কাজ নয় মাসে সম্পন্ন হয়নি, তা প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে মাত্র পাঁচ দিনে শেষ করা হয়েছে। তাদের মতে, তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় রাস্তাটি কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু হয়ে গেছে, ফলে এর স্থায়িত্ব এবং গুণগত মান নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খানাখন্দের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয়রা ভোগান্তির শিকার হয়েছিলে এবং ঠিকাদারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন। সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিক মো. জোবাইদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, গত পাঁচ দিন ধরে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে সড়কটি প্রস্তুত করেছেন।
সড়ক সংস্কার এবং পাশে নালা নির্মাণের জন্য মোট ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই কাজের ঠিকাদার খায়রুল কবির জানান, বর্ষাকালের প্রভাব এবং সড়কে বিভাজক থাকবে কি না সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে দেরি হওয়ায় কাজ দীর্ঘায়িত হয়েছিল। তবে সিটি করপোরেশনের বিশেষ নির্দেশের কারণে দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়েছে এবং তার দাবি অনুযায়ী কাজের মান সঠিক রয়েছে।
অন্যদিকে, রংপুর সিটি করপোরেশনের নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাজটির চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সফরকালে এই সড়কটি ব্যবহার করবেন বলে ঠিকাদারকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শেষ করতে বলা হয়। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, যদি কাজের গুণগত মানে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে সিটি করপোরেশন তা খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।




