সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গা পূজার মহানবমীর দিনে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে অবস্থিত জে এম সেন হল পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে হল প্রাঙ্গণের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পাঁচজন বিশিষ্ট বিপ্লবী ও রাজনীতিবিদের আবক্ষ মূর্তিগুলো নতুন করে রং করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের আয়োজনে সেখানে চলমান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের প্রস্তুতি হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন জে এম সেন হল এলাকা তদারকি করছেন। গত রোববার হল প্রাঙ্গণের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের খোলা জায়গায় অবস্থিত আবক্ষ মূর্তিগুলোর রং উঠে গিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছিল। মেয়রের নজরে বিষয়টি আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে মূর্তিগুলো রং করার পাশাপাশি বেদীগুলো সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার সকালে মেয়র শাহাদাত হোসেন সংস্কারকাজ পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই প্রসঙ্গে মেয়র জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে স্থানে আসবেন, সেখানে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ম্যুরাল ছিল। তবে অযত্ন ও অবহেলায় সেগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তাই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে তা পুনরায় সুন্দর করা হয়েছে।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, সূর্য সেন, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, মহিম চন্দ্র দাশ এবং নেলী সেনগুপ্তার স্মৃতিবিজড়িত এই ম্যুরালগুলো এখন নতুন রূপ পেয়েছে। মেয়র আরও জানান, মণ্ডপের সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং আশেপাশের এলাকা থেকে সব ধরণের ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার জন্য পুরো শহর প্রস্তুত এবং সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তাঁর আগমনের অপেক্ষা করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯১৯ সালে নির্মিত এই টাউন হলটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা যাত্রা মোহন সেনগুপ্তের মৃত্যুপরবর্তীতে তাঁর নামানুসারে 'জে এম সেন হল' হিসেবে পরিচিতি পায়। শত বছরের পুরনো এই হলের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে মাস্টারদা সূর্য সেন, কংগ্রেস নেতা যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, আইনজীবী যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নেলী সেনগুপ্তা ও রাজনীতিবিদ-সাংবাদিক মহিমচন্দ্র দাশের মূর্তি পাশাপাশি স্থাপিত রয়েছে। এই ঐতিহাসিক স্থানটি ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে আন্দোলন, চা শ্রমিকদের মুল্লুক চলো আন্দোলন, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে চলেছে। বর্তমানে এখানে নিয়মিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পূজা ও উৎসবের পাশাপাশি নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয়।




