মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে উপস্থিত হয়ে বিতর্কের জন্ম দেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রি ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় পরিচালিত এক অভিযানে তাঁর অস্ত্র হাতে থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ডেকে পদত্যাগের কথা বলেন। এই ঘটনার পর ইশরাক হোসেন ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি আজ দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বয়স আট মাস এবং এই সময়েই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ইশরাক হোসেন। তবে তাঁর এই পদত্যাগ কেবল ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীদের আচরণ ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাজনীতিকেরা যেন শক্তি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকেন। ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ড সেই প্রত্যাশার পরিপন্থী ছিল বলে মনে করা হয়।
৩৯ বছর বয়সী ইশরাক হোসেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পুত্র। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং পুরান ঢাকার সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করে তিনি দ্রুত পরিচিতি পান। পেশায় প্রকৌশলী এবং ব্যবসায়ী ইশরাক ২০১৮ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বেশ কিছু বিতর্ক জড়িয়ে ছিল। এর আগে মেয়র পদের শপথ গ্রহণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিরোধের সময় তাঁর সমর্থকরা নগর ভবন ঘেরাও করলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়েছিল, যা তাঁর পরিপক্বতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর আচরণ সমালোচনার মুখে পড়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে তাঁর উত্তেজক বাক্য বিনিময় এবং স্মৃতিসৌধে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে স্যালুট দেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উপহাসের জন্ম দিয়েছিল। যদিও তিনি স্যালুট দেওয়ার বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও শ্রদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কঠোর সিদ্ধান্ত দলের ভেতরে একটি কড়া বার্তা প্রদান করে। এর আগে মিরপুরের এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় সংশ্লিষ্ট হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। ইশরাকের ক্ষেত্রেও একই কঠোরতা বজায় রাখা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে দলীয় পরিচয় বা পারিবারিক উত্তরাধিকার কাউকে দায়মুক্তির সুযোগ দেবে না। গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, ইশরাকের আচরণ ছিল ক্ষমতার দম্ভ এবং অপরিপক্বতার উদাহরণ, যা সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছে। তবে তাঁর পদত্যাগের পাশাপাশি গেন্ডারিয়ার ঘটনায় আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।




