পিরোজপুর সদরের মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটিতে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান সেবার সুবিধা নেই। ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে এই সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় দরিদ্র নারীরা চরম সংকটে পড়েছেন। পেশায় রাজমিস্ত্রি শাওন শেখ নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের জন্য এই সরকারি কেন্দ্রে এলেও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকায় ১ অক্টোবর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে সিজার করাতে বাধ্য হন। শুধু তিনি নন, গত এক মাসেই আরও ১৫ জন নারী একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
কেন্দ্রটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে কেবল স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা রয়েছে। গত জুলাইয়ে ১২ জন, আগস্টে ২০ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ জন নারীর স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। তবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় রোগীরা ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্র ছাড়েন। একটি সফল অস্ত্রোপচারের জন্য শল্যচিকিৎসক (সার্জন) এবং অবেদনবিদ (অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক)-এর প্রয়োজন হয়, কিন্তু এই কেন্দ্রে তেমন কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। বর্তমানে আবুল কালাম আজাদ নামের একজন চিকিৎসক এখানে দায়িত্ব পালন করছেন, যার মূল কর্মস্থল কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
সেবা প্রদানের পরিবেশও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কেন্দ্রটির দোতলা ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের ছাদ থেকে কংক্রিট ভেঙে রড বেরিয়ে এসেছে এবং দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গত জানুয়ারি মাসেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই ঝুঁকিপূর্ণ দালানেই সেবা কার্যক্রম চলছে। সহকারী প্রকৌশলী শৈলেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানিয়েছেন, খুব দ্রুত ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং কেন্দ্রটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জনবলসংকটের কারণেও এই কেন্দ্রের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পিরোজপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তথ্যানুসারে, এখানে অনুমোদিত নয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ছয়জন কর্মরত আছেন। বিশেষ করে নিরাপত্তা প্রহরীর অনুপস্থিতিতে রাতে গেট বন্ধ রাখতে হয়, ফলে অনেক জরুরি রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যান। সামগ্রিকভাবে পিরোজপুর জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ৬২৮টি পদের মধ্যে ২৫৪টি পদ শূন্য, অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ পদ খালি রয়েছে। এই অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকের অভাবের ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।




