গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি আরও হ্রাস পেয়েছে। পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আগস্টে এই সূচকের মান যেখানে ছিল ৪৯.৯ পয়েন্ট, সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮.৬ পয়েন্টে। সাধারণত পিএমআই-এর মান ৫০-এর নিচে থাকলে অর্থনীতির সংকোচন বোঝায়, আর ৫০-এর উপরে থাকলে সম্প্রসারণ ধরা হয়। ফলে বর্তমান ফলাফল দেশের অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে এই সূচকটি প্রণয়ন করেছে। কৃষি, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতের প্রায় ৪০০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতামত, কাঁচামাল ক্রয়, নতুন ক্রয়াদেশ এবং কর্মসংস্থানের তথ্যের ভিত্তিতে এই মান নির্ধারণ করা হয়।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উৎপাদন খাতের পিএমআই ২.৬ পয়েন্ট কমে ৪৪.৮-এ নেমেছে, যা সামগ্রিক পতনের প্রধান কারণ। একইভাবে নির্মাণ খাতের সূচক ৩.৮ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৪৮.৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সেবা খাতও টানা দুই মাস ধরে সংকোচনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং গত মাসে এর মান নেমেছে ৪৯ পয়েন্টে। তবে আশার কথা হলো, কৃষি খাত টানা ১৩ মাস ধরে সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। যদিও এই খাতের পিএমআই মান গত মাসের তুলনায় ১.৩ পয়েন্ট কমে ৫৫.২ হয়েছে, তবুও এটি অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।
দেশের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে পাঁচটি প্রধান বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এগুলো হলো—দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কাঁচামাল ও পরিচালনা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, সাধারণ ভোক্তাদের দুর্বল ক্রয়ক্ষমতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র ঘাটতি এবং ব্যাংক থেকে ঋণ প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা। ব্যবসায়ীদের মতে, এই সামগ্রিক অনিশ্চয়তার কারণে আগাম ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করা এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, জ্বালানি ও ব্যয়ের চাপ না কমলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত হলে ব্যবসায়িক আস্থা ফিরতে পারে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান আসন্ন শীতকাল এবং মৌসুমী চাহিদার কারণে আগামী মাসগুলোতে উন্নতির প্রত্যাশা করছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ এক বিবৃতিতে জানান, উৎপাদন, সেবা ও নির্মাণ খাতের দুর্বলতা প্রমাণ করে যে অর্থনীতি এখনো প্রচণ্ড চাপের মুখে। তবে সব খাতেই সামান্য ইতিবাচক প্রত্যাশা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি হতে পারে। তিনি মনে করেন, রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা জোরদার করা এবং ব্যয়বৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণ করাই এখন অর্থনৈতিক গতি পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।




