দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকটে ভুগে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি-র গ্রাহকদের তাঁদের দাবি অনুযায়ী আমানত ফেরতের নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। গভর্নর নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকরা যেন তাঁদের প্রয়োজনমতো টাকা তুলতে পারেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ন্যাশনাল ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক এবং চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকের পর গভর্নর নির্দেশ দেন যে, আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সকল শাখা এবং এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের সরবরাহ বজায় রাখতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের ঋণ অনিয়ম এবং অনাদায়ী খেলাপি ঋণের কারণে লোকসানের মুখে রয়েছে। এই চরম তারল্য সংকটের ফলে ব্যাংকটি গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল, যার ফলে আমানত সংগ্রহেও ব্যাংকটি সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তারল্য সহায়তার মাধ্যমেই ব্যাংকটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার অবনতির চিত্র অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনেও স্পষ্ট। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮৬ কোটি টাকায়, যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা। এর বিপরীতে ২০২৫ সালের একই সময়ে ব্যাংকটির লোকসান ছিল ৯৮৫ কোটি টাকা এবং শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩ টাকা ৬ পয়সা।