প্রকৃতির এক বিস্ময়কর পরিকল্পনা হলো ফুলের গন্ধ ও রঙের বৈচিত্র্য। মূলত বংশ বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পরাগায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই ফুল বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। অনেক ফুল তীব্র সুগন্ধ ছড়ায় যাতে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় তাদের চারপাশে ভিড় করে। যখন এই পতঙ্গরা ফুলে বসে, তখন তাদের শরীর ও পাখায় ফুলের রেণু লেগে যায়। পরবর্তীতে তারা যখন অন্য ফুলে উড়ে যায়, তখন সেই রেণুগুলো স্থানান্তরিত হয় এবং পরাগায়ন সম্পন্ন হয়। সুগন্ধ না থাকলে অনেক উদ্ভিদের জন্য এই বংশ বিস্তার প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত।
তবে সব ফুলই সুগন্ধের ওপর নির্ভর করে না। যেসব ফুলের গন্ধ নেই বা খুব সামান্য, সেগুলোর প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় তাদের চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল রং। বিশেষ করে ফড়িং এবং প্রজাপতিরা এই রঙের আকর্ষণে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় এবং পরাগায়নে সহায়তা করে। এছাড়া পাখিদের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা গন্ধ নিতে পারে না। তাই পাখিদের আকৃষ্ট করার জন্য অনেক ফুল বিশেষভাবে সুন্দর ও উজ্জ্বল রঙের হয়ে থাকে। আবার কিছু কিছু উদ্ভিদ বাতাসনির্ভর পরাগায়নের ওপর নির্ভর করে, ফলে তাদের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রং বা তীব্র গন্ধের তেমন প্রয়োজন হয় না।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে সব ফুলেরই নিজস্ব গন্ধ থাকে। তবে সমস্যাটি হলো মানুষের ঘ্রাণেন্দ্রিয় সব ধরণের গন্ধ শনাক্ত করতে পারে না। ফলে যেসব ফুলের গন্ধ মানুষ অনুভব করতে পারে না, সেগুলোকে আমরা সাধারণত 'গন্ধহীন' বলে মনে করি।
বিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে ফুলগুলোর সুগন্ধ তাদের পরাগায়নে বেশি কার্যকর ছিল, সেগুলো উদ্ভিদজগতে দ্রুত নিজেদের বিস্তার ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, যেসব ফুল তাদের রঙের জাদুতে পরাগায়ন ও বংশ বৃদ্ধিতে সফল হয়েছে, তাদের জন্য আলাদা করে গন্ধ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়নি। তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ে কেবল আকর্ষণীয় রংই যথেষ্ট বলে প্রমাণিত হয়েছে।




