বাংলাদেশের বন্য হাতির অস্তিত্ব বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বন অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ১৪৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে দেশে আনুমানিক ২৬৮টি হাতি ছিল।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘হাতি সংরক্ষণ: বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বন উজাড় হওয়া, আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর সংকুচিত হওয়া, খাদ্যের অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের মতো কারণগুলোর ফলে মানুষ ও হাতির সংঘাত ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক ফাঁদের মতো বিপদগুলোও হাতির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এশীয় হাতির জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তৃত এলাকা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা হাতি সংরক্ষণকে একটি জটিল প্রক্রিয়ায় পরিণত করেছে। তাঁর মতে, এই সংকট মোকাবিলা করা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বন অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গবেষক, সংরক্ষণ সংস্থা, অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিবিড় ও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
বন্দি হাতিদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রতিটি বন্দি হাতির লাইসেন্স, বর্তমান অবস্থা ও সংখ্যার যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষণের আড়ালে হাতিদের শিকলবন্দি রাখা, প্রহার করা বা নির্যাতনের অভিযোগ এবং সার্কাসসহ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়গুলো আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মানুষের তত্ত্বাবধানে থাকা হাতিদের জন্য দায়িত্বশীল আচরণ এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় হাতি শিকার ও পাচারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন অধিদপ্তর এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), আরণ্যক ফাউন্ডেশন, আইইউসিএন বাংলাদেশ, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স এবং দীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আলী রেজা খান এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামিমা বেগম।




