সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইডুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে প্রধান পাইলটের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ অভিযোগ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকার এই সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যুটিকে সস্তা রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার লাপিদ এই দাবি জানান।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বলছে, গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সতর্ক করেছিলেন যে ইসরায়েলের ওপর অত্যন্ত ভয়াবহ কোনো হামলা হতে পারে। এই সতর্কবার্তার পর ইয়ার লাপিদ জরুরি নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ের দাবি জানান এবং মঙ্গলবার রাতে সেই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নেতানিয়াহু ও লাপিদের মধ্যে একটি বৈঠকও সম্পন্ন হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওই নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজে ঘটে যাওয়া ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে এই ঘটনার ন্যূনতম কোনো আভাস বা কাছাকাছি কোনো বিষয় আলোচিত হয়নি।

লাপিদের অভিযোগ, বর্তমানে সরকারি মুখপাত্ররা দাবি করছেন যে নেতানিয়াহু ওই ব্রিফিংয়েই হামলার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। লাপিদ একে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চলছে।

পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয় বুধবার ইসরায়েলগামী ফ্লাইডুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়োজাহাজের একটি ঘটনার মাধ্যমে। মাঝ আকাশে উড়োজাহাজটি জরুরি অবস্থা এবং বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত পাঠালে তা গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। শুরুতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিমানটি ছিনতাই হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখলেও পরে জানা যায়, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল। সেখানে সহকারী পাইলট প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। এই ঘটনার পর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। তবে যাত্রী এবং ক্রুরা দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং অন্য পাইলটদের প্রচেষ্টায় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়।