জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধি দলকে অবিলম্বে মার্কিন মাটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রতিনিধি দলের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটিতে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এবং আরও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা কোনো কার্যকর পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সোমবার এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তার মতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইরানি প্রতিনিধি দলকে চলে যেতে বলেছেন কারণ তারা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করে তাদের উপস্থিতি অবাঞ্ছিত করে তুলেছিলেন। যেহেতু সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই তাদের প্রস্থানের সময় হয়েছিলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা স্থাপনের জন্য মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা করলেও তেমন কোনো আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। যদিও ইরানি প্রতিনিধি দলের দ্রুত দেশে ফেরার কথা ছিল, তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অস্বাভাবিক এবং কঠোর পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, সোমবার সকালে হোয়াইট হাউসের প্রত্যাশা ছিল যে দিনের শেষ ভাগে আলোচনার কোনো ইতিবাচক ফল আসতে পারে, কিন্তু বিকেল নাগাদ এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ মার্কো রুবিও জাতিসংঘের মার্কিন মিশনকে নির্দেশ দেন যেন তারা ইরানি মিশনকে অবিলম্বে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার কথা জানায়। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পরেই আব্বাস আরাকচিসহ পুরো প্রতিনিধি দলটি বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে তারা নিউ ইয়র্ক থেকে দোহাগামী একটি বিমানে আরোহণ করেন। অন্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের চলে যেতে বলা হয়েছিল, যদিও আরাকচির সোমবার রাতের মধ্যেই তেহরানে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। তবে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এখনও উভয় পক্ষের সাথে আপোসের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।