আজ সোমবার ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেবেন। রায়কে ঘিরে নিহতের পরিবারের প্রতি সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনা করে ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাতের বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম জানান, মামলার বাদী ও নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পরিবারের বাসায় দুজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল; তবে গতকাল রোববার থেকে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য যোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি গত ২০ আগস্ট শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত আজকের দিন রায়ের জন্য নির্ধারণ করেন। নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, পরিবারের সবাই ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন এবং নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে আশা করছেন। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা জোরদার করায় তারা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন, তবে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যেতে হলে এখনও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন।
নারীর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে এবং নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তিনি গ্রেপ্তার হন। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায় এবং তা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরি করা হয় এবং আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন।




