চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর এলাকার সুচক্রদণ্ডী জগন্নাথ ধাম মিলন মন্দিরে এবার দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে অত্যন্ত ব্যতিক্রমীভাবে। 'পথেই জীবন' নামক এই থিমের মূল উদ্দেশ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরা এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ চলাচলে সচেতন করা। মণ্ডপটিতে প্রবেশের পথ থেকেই দর্শনার্থীরা দেখতে পান সড়ক দুর্ঘটনার করুণ দৃশ্য। কোথাও রক্তাক্ত অবস্থায় এক তরুণ রাস্তায় পড়ে আছেন, আর তার পাশে তাঁর মা দেবী দুর্গার কাছে দুই হাত তুলে প্রার্থনা করছেন। এছাড়া আহত ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য এবং বিভিন্ন সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে ‘ধীরে চলুন, জীবন মূল্যবান’ ও ‘সচেতন হলে নিরাপদ ভবিষ্যৎ’।
এই বিশেষ আয়োজনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, পটিয়া বাইপাস, চেরাগী পাহাড়ের মোড়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন এবং সিটি গেটের মতো পরিচিত স্থানগুলোর দুর্ঘটনার চিত্র ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বেপরোয়া গতি এবং অসচেতনতার কারণে কীভাবে একটি সাজানো পরিবারের স্বপ্ন ও আনন্দ স্তব্ধ হয়ে যায়, তা-ই এখানে প্রদর্শিত হয়েছে। মণ্ডপের ভেতরের ও বাইরের বিভিন্ন অংশে কর্কশিট এবং অ্যাক্রিলিক রঙের মাধ্যমে ২০টিরও বেশি দুর্ঘটনার দৃশ্য ও চিকিৎসাসেবার চিত্র তৈরি করা হয়েছে। এই অনন্য সাজসজ্জা দেখতে চট্টগ্রাম নগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করছেন। আগ্রাবাদ থেকে আসা জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা অনর্জনা ভট্টাচার্য জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই থিমের কথা জেনে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন এবং এই শিক্ষণীয় আয়োজনে তিনি অভিভূত হয়েছেন।
পটিয়ার আলমপুর গ্রামের প্রতিমাশিল্পী নয়ন দে-র পরিকল্পনা ও নকশায় এই মণ্ডপটি তৈরি করা হয়েছে। প্রায় দেড় মাস ধরে ১৫ জন কর্মী এই কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং এতে মোট খরচ হয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কাঠ, বাঁশ ও লোহার সমন্বয়ে অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ি এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার বাস্তবসম্মত ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে। শিল্পী নয়ন দে জানান, সামান্য অসচেতনতার কারণে যে প্রাণহানি ঘটে, তা থেকে মানুষ শিক্ষা নিক এবং নিরাপদে চলাচলে সচেতন হোক—এই প্রত্যাশাতেই তিনি এই থিমটি সাজিয়েছেন।
জগন্নাথ ধাম মন্দির পূজা উদ্যাপ COMMITTEE-র সাধারণ সম্পাদক পুলক দে জানান, এবার মন্দিরে ৭৩তম দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে, যা দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন। মহাষষ্ঠী থেকে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মহাপ্রসাদ বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা পূজা মনিটরিং কমিটির উপদেষ্টা শ্যামল দে জানান, পুরো উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে মোট ২১০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই উৎসব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।




