বিখ্যাত মার্কিন বিমান চালক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের নিখোঁজ রহস্যের সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের কিরিবাতির নিকুমুরোরো দ্বীপে। তবে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধান অভিযানে গবেষকরা জানিয়েছেন, সেখানে পাওয়া তথাকথিত বিমানের ধ্বংসাবশেষ আসলে ভেসে আসা গাছের গুঁড়ি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

২০২০ সালে স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে তারা তারা-ইয়া উপদ্বীপে একটি চকচকে বস্তু দেখতে পান। এই বস্তুটি কি সেই রহস্যময় বিমানের অংশ কি না, তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ দল সেখানে যাত্রা করে। এই গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী পারডু ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, ওই 'তরা-ইয়া অবজেক্ট' মূলত উপদ্বীপের বালুচরে জমা হওয়া কিছু বড় গাছের সংগ্রহ ছিল। গবেষক দলটি যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, ততক্ষণে ধ্বংসাবশেষের বেশিরভাগ অংশই ভেঙে সমুদ্রের স্রোতে ভেসে গেছে। সেখানে কেবল ইংরেজি 'Y' অক্ষরের মতো একটি খণ্ড অবশিষ্ট ছিল।

পারডু ইউনিভার্সিটির মতে, ১৯৩৮ সালের পুরনো আলোকচিত্রেও এই বস্তুটি দেখা গিয়েছিল। অগভীর পানিতে পড়ে থাকা কোনো ছোট বিমানের অবশিষ্টাংশ হতে পারে ভেবেই গবেষকরা এই অভিযানে আগ্রহী হয়েছিলেন। তবে ফলাফল হতাশাজনক। প্রকল্প পরিচালক রিক পেট্রিগিউ জানান, দীর্ঘ ৯০ বছর ধরে এই রহস্য অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং দ্বীপটি এখনও তার গোপন রহস্যগুলো ধরে রেখেছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে হয়তো এখানে চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে।

১৯৩৭ সালে বিশ্ব ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে ইয়ারহার্ট রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। তার টুইন-ইঞ্জিন লকহিড ইলেকট্রা বিমানটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া হয়ে পাপুয়া নিউ গিনির লায়ে পৌঁছেছিল। সেখান থেকে নেভিগেটর ফ্রেড নুনানের সাথে হাওল্যান্ড দ্বীপে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে তারা নিখোঁজ হয়ে যান। একটি প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী, ইয়ারহার্ট ভুলবশত নিকুমুরোরো দ্বীপে পৌঁছে বিমানটি অবতরণ করিয়েছিলেন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। গবেষক দলটিকে সমুদ্রপথে পাঁচ দিন ভ্রমণ করতে হয়েছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রচণ্ড বাতাসের কারণে তাদের বেশ কয়েকদিন জাহাজে অবস্থান করতে হয়, যা অনুসন্ধান কাজে বিলম্ব ঘটায়। অবশেষে তারা চার দিন দ্বীপে অবস্থান করে ওই নির্দিষ্ট স্থানটি খতিয়ে দেখেন এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে এটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ নয়।