দেশের জনপ্রিয় ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পাঠাও-এর বিশাল পরিমাণ ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী চক্র। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে করা এক ঘোষণায় জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি অ্যাকাউন্টের তথ্য তাদের দখলে। এই তথ্যের মধ্যে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিবরণ, বর্তমান অবস্থান, ফেসবুক প্রোফাইল এবং বাসার ঠিকানার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম 'ডেইলি ডার্ক ওয়েব' বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে আনে এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে। অপরাধীদের দাবি, তাদের কাছে মোট ১৩৩ গিগাবাইট ডেটা রয়েছে, যা ২৫ কোটি রেকর্ডের সমান এবং এতে ৫৯১টি আলাদা তথ্যভাণ্ডার বিদ্যমান। এই বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রকাশ না করার শর্ত হিসেবে পাঠাওয়ের কাছে চার লাখ ডলার মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। অর্থ প্রদান না করলে এনআইডি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, কর্মী এবং প্রশাসনিক গোপন নথি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু ব্যবহারকারীই নয়, পাঠাও-এর অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক তথ্য, কর্মীদের ব্যক্তিগত বিবরণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের হিসাব এবং চালকদের যাত্রার নথিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অ্যাকসেস লগও তাদের হাতে থাকার দাবি করা হয়েছে।
এই সংকটের মুখে পাঠাও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে জানানো হয়, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি সমস্যা শনাক্ত করা হয়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, যার ফলে ব্যবহারকারীরা সেবা পেতে বিঘ্নিত হন। দ্রুত সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হলেও সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করার কাজ এখনও চলছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে যে, এই ঘটনার সময় কিছু ব্যবহারকারীর নাম, ই-মেইল এবং ফোন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে চলে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পাঠাও-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, পাঠাও-এর উচিত দ্রুত একটি স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত শুরু করা। একইসঙ্গে সার্ভার এবং অ্যাকসেস লগসহ সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণভিত্তিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করাকেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।




