ফেসবুকের সাবেক কর্মী এবং আলোচিত হুইসেলব্লোয়ার ফ্রান্সেস হাউজেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোকে 'আগুনের সাথে খেলা'র সঙ্গে তুলনা করেছেন। হাউজেনের মতে, জাকারবার্গ মূলত একটি ইতিবাচক উত্তরাধিকার বা লিগাসি তৈরির আকাঙ্ক্ষা থেকে এই পথে হাঁটছেন। তার দাবি, ২০২১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে আসার পর মেটার অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত 'দ্য সোশ্যাল রিকনিং' চলচ্চিত্রে হাউজেনের জীবনের সেই সাহসী সিদ্ধান্তের কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে তিনি ফেসবুকের হাজার হাজার অভ্যন্তরীণ নথি ফাঁস করে দিয়েছিলেন। ওই নথিতে প্রকাশ পেয়েছিল যে, ইনস্টাগ্রাম কিশোরী মেয়েদের শারীরিক গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা বা বডি ইমেজ সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হাউজেন আশা করেন, এই সিনেমাটি দেখে এআই গবেষণাগারের বর্তমান কর্মীরা অনুপ্রাণিত হবেন এবং কোনো ভুল দেখলে তা প্রকাশ করার সাহস পাবেন।
তবে বর্তমান সময়ে এআই খাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, হাউজেন এই প্রযুক্তির উন্নয়ন সম্পূর্ণ বন্ধ করার পক্ষে নন। তার মতে, উন্নয়ন থামিয়ে দিলে যারা নিয়ম মানতে চায় না, শেষ পর্যন্ত তারাই জয়ী হবে। এর পরিবর্তে তিনি ডারিও আমোদেই-এর প্রস্তাবিত স্বাধীন অডিটর বা তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা ব্যবস্থার সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ব্যাংকিং খাতের মতো এআই কোম্পানিগুলোর জন্যও আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা উচিত যেন বাইরের নিরীক্ষকরা তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়মিত যাচাই করতে পারেন। যদিও বর্তমান এআই কোম্পানিগুলো ফেসবুকের তুলনায় বেশি গবেষণা প্রকাশ করে, তবে হাউজেন সন্দেহ করেন যে সেই তথ্যের সাথে বাস্তব পরিস্থিতির মিল আছে কি না।
জাকারবার্গের নিয়ন্ত্রণের বিরোধী অবস্থানের বিষয়ে হাউজেন বলেন, মেটা বর্তমানে অ্যানথ্রোপিক বা ওপেনএআই-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ল্যাবগুলোর চেয়ে পিছিয়ে আছে। তাই জাকারবার্গ চান কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকুক, যাতে তিনি দ্রুত বড় কোম্পানিগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন।
কনটেন্ট মডারেশন বা ক্ষতিকর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও হাউজেনের কঠোর সমালোচনা রয়েছে। তিনি জানান, তার সময়ে ফেসবুক কেবল ৩% থেকে ৫% বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (hate speech) শনাক্ত করতে পারত। বর্তমানে মেটা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের বদলে এআই-এর ওপর নির্ভর করছে। যদিও তিনি মনে করেন উন্নত এআই মডেলের ফলে ভুল কমবে এবং ক্ষতিকর বিষয় শনাক্তকরণের হার বাড়বে, তবে ভাষার জটিলতার কারণে এটি সর্বোচ্চ ১০% থেকে ২০% হতে পারে। হাউজেনের মতে, আসল সমাধান হলো সিস্টেমটিকে শুরু থেকেই নিরাপদভাবে ডিজাইন করা, কেবল শেষ মুহূর্তে তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করা নয়।




