ভারতের নির্বাচন কমিশন গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে নিজ নিজ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁদের পদত্যাগের কারণে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসন দুটি শূন্য হয়। এই দুই আসনেই আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বুধবার থেকে, যা চলবে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে কি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে রাজ্য বিধানসভা বা লোকসভার কোনো আসনের সদস্য নন। তাই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাখতে একটি আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী। এই আসনটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে মমতার জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই মত তাঁদের।

এর আগে অনুষ্ঠিত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারী মমতাকে হারিয়েছিলেন। সে নির্বাচনে শুভেন্দু পান ৭৩ হাজার ৯১৭ ভোট, আর মমতা পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৮১২ ভোট। ব্যবধান ছিল ১৫ হাজার ১০৫ ভোট। অপরদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের পবিত্র করকে পরাজিত করেছিলেন। সেখানে শুভেন্দু পান ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৬৯ ভোট, পবিত্র কর পান ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৭ ভোট— ফলে জয়ের ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ৬৬৫ ভোট।

রেজিনগর আসনের বিগত নির্বাচনের ফলাফল দেখলে বোঝা যায়, সেখানে হুমায়ুন কবীরের জয় ছিল নিশ্চিত। তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট, অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন মাত্র ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। এই ব্যবধানই ছিল ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোট। ওই বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮টি আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি।

হুমায়ুন কবীর নির্বাচনে জয়লাভের পরেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে তিনি তাঁর আসনটি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে মমতার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবুও রেজিনগরে মমতার প্রার্থী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তা দিন দিন জোরদার হচ্ছে। তৃণমূলের একাংশের মতে, এই আসনে প্রার্থী হলে মমতার জয় প্রায় নিশ্চিত। ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মমতার সিদ্ধান্ত জানাজানি হলে তবেই এই জল্পনার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।