খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল রোধ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানটি আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশনায় পচা, বাসি, নষ্ট এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী শনাক্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

রাজ্যজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের পাশাপাশি কলকাতার পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা এবং অন্যান্য জেলার পৌর কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। মূলত বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, মুদি দোকান এবং খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রীর সন্ধান মিলেছে। বিশেষ করে মিষ্টির দোকানগুলোতে পচা ও বাসি মিষ্টির পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কৃত্রিম রং মেশানো মিষ্টি পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা এসব অনুপযুক্ত খাদ্যসামগ্রী অবিলম্বে ড্রেন ও ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের এক পর্যায়ে বাঁকুড়ার একটি দোকান থেকে ৪৭০ টিন ভেজাল সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। এছাড়া ভেজাল ঘি, ছানা এবং দই উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু দোকানপাট নয়, রাজ্যের বিভিন্ন শপিং মলেও তল্লাশি চালিয়ে নষ্ট মাছ ও মাংস উদ্ধার করেছেন কর্মকর্তারা। ফ্রিজে রাখা খাসি ও মুরগির মাংস মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পচে যাওয়ায় তা বাজেয়াপ্ত করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কলকাতার নাগেরবাজারের ডায়মন্ড প্লাজা এবং মধ্যমগ্রামের স্টার মলসহ বিভিন্ন জেলার শপিং মলে এই পচা মাছ-মাংস পাওয়া গেছে।

এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ১৭টি নামী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতার জোড়াসাঁকো, ধর্মতলা, ডালহৌসি, সল্টলেক, পার্ক স্ট্রিট, লেক মার্কেট, টেংরা, কামালগাজি ও নারায়ণগড় এলাকায় পচা ও বাসি খাবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, জয়পুর, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দাঁতন এলাকার অনেক রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানেও ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া গেছে। এমনকি ধর্মতলার ডেকার্স লেনে অফিসকর্মীদের জন্য সস্তায় প্রস্তুতকৃত সকাল ও দুপুরের খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়ে ভেজাল পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং ফুটপাতের বিভিন্ন দোকান থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।