যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর মিয়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে রবিবার এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, সান জুয়ান, পুয়ের্তো রিকো থেকে ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর পর দুপুর ২টোর দিকে বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করে ছিটকে বাইরে চলে যায়। এই ঘটনার ফলে বিমানটি রানওয়ের বাইরে থাকা বেশ কিছু যানবাহনকে ধাক্কা দেয় এবং এতে প্রচণ্ড আগুন ধরে যায়। আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা গেছে, বিমানটি পেটের ওপর ভর করে রাস্তার পাশে এসে থেমেছে এবং তার খুব কাছেই দুটি সেমি-ট্রাক পার্ক করা ছিল। আগুনের তাণ্ডব সত্ত্বেও বিমানটির মূল কাঠামো অনেকাংশেই অক্ষত ছিল। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমানটিকে জ্বলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৬০টি ফায়ার রেসকিউ ইউনিট সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিমানবন্দরের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, সব রানওয়ে এবং ট্যাক্সওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে 'গ্রাউন্ড স্টপ' কার্যকর করা হয়েছে। গ্রাউন্ড স্টপ কার্যকর হলে বিমানবন্দরের সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত হয়ে যায় এবং পুরো বিমানবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এফএএ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হলেও স্বল্পসংখ্যক বিমান ওঠানামা করার কারণে দীর্ঘক্ষণ ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, তারা এই বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ইমেলের উত্তর দেয়নি।




