পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নে অর্থায়ন আনছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৭.৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তার মাধ্যমে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে।
প্রকল্পটির নাম সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস। এর আওতায় নির্মিত হবে ৩৩/১১ কিলোভোল্টের ছয়টি উপকেন্দ্র। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সক্ষমতা বাড়বে ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার। এছাড়া ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন লাইন বসানো হবে। পুরোনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার লাইন, চারটি উপকেন্দ্র, একটি সুইচিং স্টেশন ও একটি জোনাল মেরামত কেন্দ্রও সংস্কার করা হবে।
এতে অন্তত ৮৮ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবার রয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রিড সংযোগের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। খাগড়াছড়িতে ৪৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ ও বান্দরবানে ৪১ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে এই হার ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পটি শেষ হলে ২০৩২ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের সংযোগ হার ৬৮ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণে ক্ষয়ক্ষতি (সিস্টেম লস) এবং পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছে এডিবি। ফলে গ্রিডের দক্ষতা বাড়বে। বছরে অন্তত ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হবে। দুর্যোগকালীন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতাও বাড়বে।
এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেছেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কমিউনিটির দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পাবে। জীবিকার সুযোগ বাড়বে এবং নারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে। ফলে বাংলাদেশ আরও স্থিতিস্থাপক ও কম কার্বন নিঃসরণকারী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।
সামাজিক উন্নয়নে প্রকল্পের আওতায় কমপক্ষে ৩০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠনগুলো এগুলো পরিচালনা করবে। এসব সংগঠনের নেতৃত্বে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী থাকবেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পরিষ্কার জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সেবা প্রদানকারী অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে সৌরভিত্তিক ব্যাকআপ ব্যবস্থা দেওয়া হবে। স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিক এই তালিকায় রয়েছে। গ্রিডকে ভবিষ্যতে সৌর ও পিকো-জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হবে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্য।




