শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মানুষ মিছিলসহ প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের (৫৫) বাড়ির দিকে যান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে উত্তেজিত জনতা বহুতল ভবনটির দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল, কিন্তু গ্রামবাসীর সংখ্যার তুলনায় পুলিশ কম থাকায় তাদের বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীটি নিখোঁজ হয়। বুধবার তার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি জানান, মুদিদোকানি মোস্তফা ও ইয়াছিন শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যার বিবরণ প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নিষ্পাপ শিশুটির ওপর এমন নৃশংস নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেশে ক্রমাগত ঘটতে থাকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সংবাদ পেয়ে পাবনা সদর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি তরিকুল ইসলাম।