নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে ঢাকার কুর্মিটোলা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন। নিহত শাহ আলমগীর (২৩) উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের নুরুল হক মিয়ার ছেলে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। ওই গ্রামের বাসিন্দা লিগেল মিয়া ও আব্দুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে তাদের অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষ বাধে। পরদিন বুধবার সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তবে গুরুতর অবস্থায় চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লিগেল মিয়া পক্ষের শাহ আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
শাহ আলমগীরের প্রতিবেশী সানোয়ার ফকির জানান, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ঢাকার কুর্মিটোলা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান ওসি নাসিরুদ্দিন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে পুলিশ।
সংঘর্ষের পর দুই পক্ষ থেকেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং আলাদা দুটি মামলা হয়। নিহতের পক্ষের মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছেন ওসি। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।




