বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট সম্প্রতি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন কিছু প্রযুক্তিগত পদ্ধতির পেটেন্ট গ্রহণ করেছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই নতুন পেটেন্টগুলো মূলত কীভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হবে তা নিয়ে, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে— প্রতিষ্ঠানটি কি গ্রাহকের পরিচয় জেনে ভিন্ন ভিন্ন দাম নির্ধারণ করবে?
জানুয়ারিতে ওয়ালমার্ট একটি পেটেন্ট পায়, যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটের পণ্যের দাম বা মার্কডাউন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। এটি মূলত চাহিদার পূর্বাভাস এবং গ্রাহকরা দামের প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে। এরপর মার্চ মাসে আরও একটি পেটেন্ট অনুমোদিত হয়, যেখানে পূর্বের কেনাকাটার রেকর্ড বিশ্লেষণ করে চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়া এবং পণ্যের দাম সুপারিশ করার কথা বলা হয়েছে। এই নথিতে পেমেন্ট পদ্ধতি এবং কাস্টমার আইডি-র মতো তথ্যের উল্লেখ থাকলেও, ওয়ালমার্ট এই সিস্টেমগুলো বর্তমানে ব্যবহার করছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ফিউচার অফ প্রাইভেসি ফোরামের জেমসন স্পিভ্যাক মনে করেন, পেটেন্ট নেওয়া মানেই তা ব্যবহার করা নয়। তাঁর মতে, ওয়ালমার্টের এই আবেদনগুলো ব্যক্তিগত স্তরে নয়, বরং পণ্য স্তরে দাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বর্ণনা করে। অর্থাৎ, কোনো পণ্যের চাহিদা কমলে তার দাম কমানো হবে এবং তা সব গ্রাহকের জন্য সমান হবে। অন্যদিকে, 'পারসোনালাইজড প্রাইসিং' বা ব্যক্তিগত মূল্য নির্ধারণের অর্থ হলো নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তার জন্য আলাদা দাম ঠিক করা। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (ACLU) সিনিয়র পলিসি অ্যানালিস্ট জে স্ট্যানলি-ও মনে করেন, এই পেটেন্টগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে দাম নির্ধারণের কথা বলা হয়নি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, লয়্যালটি প্রোগ্রাম এবং অনলাইন শপিংয়ের কারণে এখন খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষে গ্রাহকের পছন্দ-অপছন্দ ট্র্যাক করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।
ওয়ালমার্টের নিজস্ব প্রাইভেসি নোটিশে বলা হয়েছে যে, তারা গ্রাহকের কেনাকাটার ইতিহাস এবং ওয়েবসাইট বা অ্যাপে তারা কী খুঁজছেন, সেই তথ্য সংগ্রহ করে। এই তথ্যগুলো বিজ্ঞাপন এবং পণ্যের সুপারিশের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এই বিষয়ে ওয়ালমার্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পেটেন্ট নেওয়া তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ রক্ষার একটি উপায় মাত্র। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, "ওয়ালমার্ট গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, কেনাকাটার উদ্দেশ্য বা ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন দাম নির্ধারণ করে না।"
পাশাপাশি, ওয়ালমার্ট তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২,৩০০টি দোকানে কাগজের প্রাইস ট্যাগের বদলে ডিজিটাল শেল লেবেল চালু করেছে, যা আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো চেইনে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, এই ডিজিটাল লেবেলগুলো দিয়ে কেবল দাম আপডেট করা হয় এবং এগুলো গ্রাহকদের কোনো তথ্য সংগ্রহ করে না। দোকানের ভেতরে সবার জন্য দাম একই থাকে। তবে বিশেষজ্ঞ জেমসন স্পিভ্যাকের মতে, যদি কোনো বিক্রেতা গ্রাহকের পরিস্থিতি জেনে (যেমন: কেউ অসুস্থ হলে টিস্যুর দাম বাড়িয়ে দেওয়া) বেশি দাম নেয়, তবেই তা প্রকৃত গোপনীয়তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।




