কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ইন্টারনেট থেকে অনুমতি ছাড়াই লাখ লাখ সংবাদ নিবন্ধ সংগ্রহের বিষয়ে ওপেনএআই এবং মাইক্রোসফটের নিজস্ব শীর্ষ কর্মকর্তাদের চরম উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের ফলিত বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক ড. ব্রেন্ট হেখট এই ডেটা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটিকে মানব ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় শ্রম চুরি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে জানান, এই প্রবণতা একটি বিপজ্জনক এবং পতনমুখী চক্রের সৃষ্টি করতে পারে। একইসাথে ওপেনএআই-এর নির্বাহী নিক টার্লি এই কাজটিকে সংবাদ প্রকাশকদের জন্য একটি ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৩ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং আরও পাঁচজন লেখক মিলে এই প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনায় প্রকাশিত কিছু গোপন নথি থেকে জানা গেছে, ওপেনএআই এবং তাদের সহযোগীরা পেওয়াল বা সাবস্ক্রিপশন বাধা পেরিয়ে ভেতরের কনটেন্ট সংগ্রহ করত। এমনকি বিশাল ডেটাসেট তৈরির সময় তারা মূল কপিরাইট নোটিশগুলোও মুছে ফেলত। বাদীদের অভিযোগ, কোনো অনুমতি বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই হাজার হাজার সংবাদ নিবন্ধ ব্যবহার করে এই কোম্পানিগুলো কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করছে। যদিও এআই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে আগের কিছু মামলায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো জয়ী হয়েছে, তবে বিচারকরা স্বীকার করেছেন যে আইনটি এখনও অস্পষ্ট। ফলে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ‘ফেয়ার ইউজ’ বা আইনগত অধিকারের বিষয়টি নির্ধারণে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্মীদের এসব কঠোর মন্তব্যের ফলে অস্বস্তিতে পড়েছে মাইক্রোসফট। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যালেক্স হরেক এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের রূপান্তরকারী প্রযুক্তিগুলো কপিরাইট আইনের পরিপন্থী নয় এবং মাইক্রোসফটের ‘কোপাইলট’ টুলটি কখনোই সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। তবে ফাঁস হওয়া নথিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। যেমন, ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানকে যখন একজন কর্মী নতুন করে পেওয়াল হ্যাকিংয়ের বিষয়ে জানান, তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘আহ চমৎকার’।
এছাড়া ২০২৩ সালের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, এআই মডেলগুলো যেভাবে মানুষের কাজ ‘শুষে নিচ্ছে’, তাতে ভবিষ্যতে লাখ লাখ মানুষ একে ‘নজিরবিহীন চুরি’ হিসেবে দেখবে। মাইক্রোসফটের মুখপাত্র অ্যালেক্স হরেক স্বীকার করেছেন যে, এসব এআই মডেল এমন এক পণ্য যা ‘এর নিজস্ব সরবরাহ শৃঙ্খলকেই ধ্বংস করে দেয়’। অন্যদিকে, ওপেনএআই-এর একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সহকর্মীদের লিখেছিলেন যে, তারা যত আকর্ষণীয়ভাবে লিংকের উপস্থাপনই করুক না কেন, ব্যবহারকারীরা সেগুলোতে ক্লিক করবে না। নির্বাহী নিক টার্লিও এই মতের সাথে একমত হয়ে বলেছেন যে, এআই পণ্যগুলো প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতার একটি বড় অংশের বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।




