জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানী সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে তিনি যেমন দর্শকদের মন জয় করেছেন, তেমনি তার ব্যক্তিগত জীবনও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। এবার তিনি জানালেন চলমান লোডশেডিং নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের সময়টাকে তিনি পরিবারের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বিদ্যুৎ ফিরে এলে মনে হয় যেন জীবনে নতুন করে আলো এসেছে।

তার বিখ্যাত ছবির চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে চৌধুরী সাহেবকে ম্যানেজ করার কথা বলা হয়েছে তিনি আর নেই। তবে তার মেয়েকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করলে হয়তো নতুন কোনো চৌধুরী সাহেবের সৃষ্টি হতে পারে। কেন তিনি সব সময় ধনী পরিবারের মেয়েদের সঙ্গে প্রেম করেছেন—এই প্রশ্নে তিনি গর্বিত কণ্ঠে বলেন, ওমর সানী গরিবের আর্টিস্ট, এ নিয়ে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। বড়লোকের এসির চেয়ে গরিবের ভালোবাসার স্বস্তিই বেশি মূল্যবান বলে মনে করেন তিনি।

ভিলেনের সঙ্গে লড়াই আর ফেসবুকের নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের সঙ্গে লড়াই—কোনটা বেশি আনন্দ দেয়? উত্তরে তিনি হেসে বলেন, যারা নেতিবাচক মন্তব্য করে তারা না বুঝেই করে, তাদের জন্য তার দোয়া আছে। তাদের সঙ্গে সময় নষ্ট না করে তিনি সেই মন্তব্যকে ফ্রি কমেডি শো হিসেবে উপভোগ করেন। কারণ ভিলেনের সঙ্গে লড়াই করে তিনি অর্থ পেয়ে থাকেন, কিন্তু ফেসবুকের মন্তব্যকারীদের সঙ্গে লড়াই করলে কী পাবেন?

তার রেস্টুরেন্টের নাম 'চাঁপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি' কেন—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, পৃথিবীতে শ্বশুরবাড়ির খাবার সব সময় মজাদার হয়। তাই তিনি তার কাস্টমারদের শ্বশুরবাড়ির দৃষ্টিকোণ থেকে আপ্যায়ন করেন, যেন তারা বিল দেওয়ার সময় মনে না করেন শ্বশুরবাড়িতে এসে আবার বিল। তার চিন্তা, রস+আলো তাকে সামলাতে পারবে কি না।

অভিনেতা জানান, তিনি আর কোনো ব্যবসা করবেন না। চাবুক নয়, ভাতের হোটেলই তার শেষ ব্যবসা। কারণ চাবুক দিয়ে মানুষকে পেটানো যায়, কিন্তু ভাতের হোটেলে মানুষ পেট ভরে খায়—তিনি দ্বিতীয়টাই পছন্দ করেন। জীবনের বাকি সময়টা চামচ-থালা নিয়েই কাটাতে চান। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, আগে পরিচালক-প্রযোজকেরা চাবুক নিয়ে আসতেন এবং তার হাতে বা নায়িকার হাতে তুলে দিতেন। এখন তিনি নিজের জন্য একটি চাবুক রাখবেন, যাতে সাক্ষাৎকারে এসে প্রশ্নের উত্তর পছন্দ না হলে চাবুক দেখিয়ে 'পরের প্রশ্ন' বলতে পারেন।

যদি তিনি নায়ক না হয়ে গায়ক হতেন, তাহলে কোন গান গাইতেন? তিনি জানান, 'জীবন আঁধারে পেয়েছি তোমারে' গানটি তার ভীষণ প্রিয় এবং এই গান দিয়েই তিনি ক্যারিয়ার শুরু করতেন। তবে শ্রোতারা যদি তাকে আবার নায়ক বানাতে চান, তাহলে তাকে ফিরে আসতেই হবে।

জীবনের বন্ধু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন বন্ধুত্ব করার বয়স ও ধৈর্য দুটোই কমে গেছে। তাই ৩১ বছরের পুরোনো বন্ধু মৌসুমীকেই পাশে রাখবেন, কারণ তার ৩১ বছরের ওয়ারেন্টি চলছে, নতুন বন্ধুর গ্যারান্টি নেই।

নিজের জীবন নিয়ে সিনেমা বানালে নাম কী দেবেন? তিনি বললেন, 'ওমর সানী এখনো আছেন'। কারণ এত কিছুর পরও তিনি টিকে আছেন—এটাই সবচেয়ে বড় ক্লাইম্যাক্স। ছবির শেষে থাকবে—নায়ক বদলাতে পারে, চাবুক বদলাতে পারে, কিন্তু ওমর সানী বদলায় না।