যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্র্যান্ডন নেলসনের একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। এই বিশেষ বৈঠকের সময়ে নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিষয়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও সম্ভাবনাটি নাকচ করে দেননি। তিনি জানান, সরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্যের বাইরে তাঁর কাছে বিস্তারিত কিছু নেই, তবে বাংলাদেশ বোয়িং বিমান কিনছে—এটি যেহেতু একটি প্রকাশিত তথ্য, তাই এই সফরে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি চিঠি লিখে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং দ্রুত সাক্ষাতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর তথ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বোয়িং অপারেট করে আসছে এবং সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ও সাপোর্টিং স্টাফরা ইতিমধ্যে প্রশিক্ষিত। এই কারিগরি প্রস্তুতির কারণেই বোয়িং-এর প্রতি সরকারের বিশেষ পছন্দ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং-এর সাথে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার একটি প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে (১ ডলার সমান ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসেবে) এই চুক্তিটি করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ ক্রয় করবে, যার মধ্যে বাকি ১১টি বিমানের চুক্তি এই নিউইয়র্ক সফরেই সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই বিমানগুলো সরবরাহ করবে বোয়িং। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও সাথে রয়েছেন, যা এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।