বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ইস্ট বেকারের নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্যের বিপণন বন্ধ রাখার পূর্ববর্তী নির্দেশনা শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, প্রিজারভেটিভসহ অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ অনুমোদিত মাত্রার মধ্যে রাখা এবং নির্দিষ্ট শর্তাবলী মেনে চলার প্রতিশ্রুতিতে গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পণ্যগুলোর বিপণন পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ নামের দুটি নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পণ্যের গুণগত মান এবং প্রিজারভেটিভের ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতে ইস্ট বেকার বিভিন্ন স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে তাদের নমুনার পরীক্ষা করিয়েছিল। বিএসটিআই-এর পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন জানান, তারা ঢাকা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে চারটি ভিন্ন পয়েন্ট থেকে ব্রেডের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রেডে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেট প্রিজারভেটিভের মাত্রা নিরাপদ সীমার অনেক নিচে। প্রতি কেজিতে ৫ গ্রাম পর্যন্ত নিরাপদ মাত্রা থাকা সত্ত্বেও ইস্ট বেকারের নমুনগুলোতে ২.৫৩ থেকে ২.৯৯ গ্রামের মধ্যে পাওয়া গেছে। বিএসটিআই-এর মতে, পণ্যটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং মানসম্মত, যা ভোক্তাদের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না।

ইস্ট বেকার তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিএসটিআই ছাড়াও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএফএসটি) এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে। এই পরীক্ষাগুলোতে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটসহ সব উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে এবং পটাশিয়াম ব্রোমেটের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। এছাড়া বিসিএসআইআর-এর অধীনে ৩০ দিনের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল শেলফ লাইফ স্টাডি করা হয়, যেখানে সব ফলাফল ‘গ্রহণযোগ্য’ এসেছে এবং ক্ষতিকর সালমোনেলা এসপিপি অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা ভবিষ্যতেও উৎপাদন প্রক্রিয়ার গুণগত মান এবং খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। একইসঙ্গে তারা ভোক্তা ও ডিলারদের বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিবর্তে যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।