বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মালয়েশিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা গ্রুপ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে গ্রুপটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিক রিজাল কামিল দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, বর্তমানে টেলিকম খাত কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে আজিয়াটার অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ হলো রবি। সিইও নিক রিজাল কামিল রবির গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেন, তাদের মোট টেলিকম পোর্টফোলিওর ৯০ শতাংশ আসে পাঁচটি প্রধান ব্যবসা থেকে, যার মধ্যে রবি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। রবির মুনাফার হারের সঙ্গে গ্রামীণফোনের তুলনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দুটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও বাজার অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা সঠিক হবে না। বরং রবির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, ডেটা ব্যবসায় নেতৃত্ব এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। গ্রাহকদের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের গতি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মূল উদ্দেশ্যই হলো নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন করা।
প্রযুক্তির কথা বলতে গিয়ে তিনি টেলিকম খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বড় প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে গ্রাহক ব্যবস্থাপনা, বিক্রয় কার্যক্রম এবং নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সমস্যা আগে থেকে শনাক্ত করে সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা গোপনীয়তাকে ডিজিটাল অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, রবি এবং আজিয়াটা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন কাঠামো শক্তিশালী করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিনিয়োগ করছে।
টেলিকমের বাইরে নতুন ব্যবসায়িক আগ্রহ প্রসঙ্গে নিক রিজাল কামিল জানান, তারা এমন সব সুযোগ খুঁজছেন যা তাদের মূল ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে এই ব্যবসাটি কেবল প্রযুক্তিনির্ভর না হয়ে মানুষের প্রকৃত চাহিদাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা উচিত। রবির বিশাল গ্রাহকভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি ক্যাশলেস সমাজ গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা প্রদান করবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, স্মার্টফোন ও ফাইভ-জি ডিভাইসের ব্যবহার বাড়লে ডেটা ও ডিজিটাল সেবার প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের দ্রুত ডিজিটাল খাতের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে তিনি বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন। সামগ্রিকভাবে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে টেলিকম অবকাঠামোর উন্নয়ন শুধু কোম্পানির জন্য নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।




